শ্বশুরের ভিটায় বাড়ি করে এখন উচ্ছেদের মুখে নার্গিস

শ্বশুরের ভিটায় বাড়ি করে এখন উচ্ছেদের মুখে নার্গিস

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

দাম্পত্য জীবনের দীর্ঘ ১৯ বছর পার করার পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের চরম প্রতারণা এবং উচ্ছেদের ষড়যন্ত্রের মুখে পড়েছেন যশোরের এক অসহায় নারী। সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের মোবারকাটি গ্রামের বাসিন্দা নার্গিস আক্তার তাঁর স্বামী বদিয়ার রহমান ও শ্বশুরবাড়ির স্বজনদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, শারীরিক নির্যাতন এবং বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা দাবি করেছেন। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি তাঁর জীবনের চরম বিড়ম্বনার চিত্র তুলে ধরেন।

লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী নার্গিস জানান, ২০০৭ সালে বদিয়ার রহমানের সাথে তাঁর বিয়ে হয় এবং সুখে-শান্তিতে বসবাসের আশায় তাঁরা ঢাকার খিলগাঁও এলাকায় সংসার শুরু করেন। কিন্তু ২০১২ সাল থেকে তাঁর জীবনে দুর্বিষহ মেঘ নেমে আসে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেই সময় তাঁর স্বামী বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ করে এবং স্ত্রীর ১০ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে উধাও হয়ে যান। পরবর্তীতে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ক্ষমা করে দিয়ে স্বামীর দেনা পরিশোধ করে পুনরায় সংসার সাজিয়েছিলেন নার্গিস। কিন্তু ২০২১ সালে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং বদিয়ার আবারও অর্থ ও অলংকার নিয়ে আত্মগোপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে নার্গিস আক্তার দাবি করেন, ২০২৩ সালে শ্বশুরবাড়ির আশ্বাসে তিনি নিজের সবটুকু সামর্থ্য উজাড় করে দেন। ঢাকায় থাকা কিন্ডারগার্টেন স্কুল, কোচিং সেন্টার, কাপড়ের দোকান এবং নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে প্রাপ্ত বিপুল অর্থ দিয়ে শ্বশুরের জমিতে পাঁচতলা ফাউন্ডেশনের একটি আলিশান বসতবাড়ি নির্মাণ করেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাড়ির কাজ শেষ হওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর নেমে আসে অমানুষিক নির্যাতন। স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁকে এবং তাঁর একমাত্র পুত্র সন্তান খালেদ রহমান আলিফকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করে। গত ২৯ মার্চ তাঁকে তালাক দিয়ে ঘর ছাড়ার চূড়ান্ত চাপ সৃষ্টি করা হয়।

ভুক্তভোগী এই নারী আরও জানান, বর্তমানে এই বিষয়ে আদালতে একটি নারী নির্যাতন মামলা বিচারাধীন রয়েছে। আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পর থেকে অভিযুক্তরা ক্রমাগত মোবাইল ফোনে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। স্থানীয় সালিশি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করা অর্থ ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তাঁকে উচ্ছেদ করা যাবে না; কিন্তু প্রভাবশালী চক্রটি সেই সিদ্ধান্ত অমান্য করে তাঁকে ও তাঁর ছেলেকে মিথ্যা অপবাদে গ্রামছাড়া করার চেষ্টা করছে। এমনকি তাঁর ছেলের ওপর হামলার চেষ্টাও হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। জীবনের সবটুকু বিনিয়োগ করে গড়া বাড়ি থেকে উচ্ছেদ বন্ধ, প্রতারণার বিচার এবং নিজের ও সন্তানের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি যশোর জেলা প্রশাসন ও পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত বদিয়ার রহমান বা তাঁর পরিবারের কারো সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *