স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর সদর উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মহসিন আলীর বিরুদ্ধে প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা, সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক অনিয়মের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দলীয়ভাবে কারণ দর্শানো নোটিশ বা শোকজ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টা ৪১ মিনিটে গণমাধ্যমে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। যশোর সদর উপজেলা বিএনপির অত্যন্ত দায়িত্বশীল সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সংবাদ মাধ্যমকে মহসিন আলীকে শোকজ করার বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ২৭ মে যশোর সদর উপজেলার দেয়াড়া মডেল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রসূল বাদী হয়ে মহসিন আলীর বিরুদ্ধে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি ও বিভিন্ন অনিয়মের ফিরিস্তি তুলে ধরে জেলা ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং সাংগঠনিক সম্পাদক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগপত্র দায়ের করেন, যার প্রেক্ষিতেই এই কড়া আইনি ও সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা গোলাম রসূল অত্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, গত ২৬ মে বিকেল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে স্থানীয় একটি মসজিদে আজান দেওয়াকে কেন্দ্র করে তাঁর ছোট ভাইয়ের সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা আতি মোড়লের এক অনাকাঙ্ক্ষিত বাক-বিতণ্ডা ও তর্কাতর্কি হয়। পরবর্তীতে ওই তুচ্ছ ঘটনার জেরে সদর উপজেলা কৃষক দলের সদস্য সচিব মহসিন আলীর প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী ফরিদপুর পুরাতন বাজার এলাকায় দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গোলাম রসূল এবং তাঁর আপন ভাতিজা হান্নান বিশ্বাসের ওপর অতর্কিত ও নৃশংস হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁদের দুজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে। এই ঘটনার পর মহসিন আলীর রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আরও বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী সাহস করে মুখ খুলতে শুরু করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা ইউসুফ আলী নামের এক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানান, জমি সংক্রান্ত একটি বিরোধের মীমাংসা করে দেওয়ার কথা বলে কৃষক দল নেতা মহসিন তাঁর ছেলে পলাশের মাধ্যমে নগদ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। জাকির হোসেন নামের আরেক ভুক্তভোগী দাবি করেন, বঙ্গবাসী সমিতির নামে তাঁর কাছ থেকেও জোরপূর্বক ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল, তবে তোপের মুখে পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন মহসিন। এছাড়া সুলতান নামের অপর এক স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, এই কৃষক দল নেতা মহসিন আলী তাঁকে স্থানীয় বাজারে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন, কিন্তু মহসিনের তীব্র রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তিনি তখন প্রাণভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারেননি।
এই গুরুতর ও স্পর্শকাতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে অভিযুক্ত কৃষক দল নেতা মহসিন আলী তাঁর বিরুদ্ধে দলীয় সভাপতি ও সেক্রেটারির কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে নিজের পক্ষে সাফাই গেয়ে তিনি জোরালোভাবে দাবি করেন যে, এলাকায় তাঁর ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় চরম ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি বিশেষ কুচক্রী মহল সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে এই জঘন্য ও মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে। নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে মহসিন আলী বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ শতভাগ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন; আমি সাংবাদিকদের অনুরোধ করব আপনারা মাঠপর্যায়ে সঠিকভাবে তদন্ত করুন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে আমার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছা সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর সদর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক স্পষ্ট ভাষায় জানান, শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কৃষক দলের সদস্য সচিব মহসিন আলীকে প্রাথমিকভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই শোকজের লিখিত জবাব পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে আনীত প্রতিটি অভিযোগের বিষয় অত্যন্ত নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হবে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ছবি সংগৃহীত।


