মনিরামপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবককে কুপিয়ে জখম

মনিরামপুরে প্রকাশ্য দিবালোকে যুবককে কুপিয়ে জখম

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় পৈতৃক জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় জুলফিকার (৪০) নামের এক ব্যক্তি গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন। গত সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার লক্ষণপুর গ্রামে এই নৃশংস মারধরের ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা ধারালো দা, শাবল ও লোহার রড ব্যবহার করায় ভুক্তভোগীর শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক জখম হয়েছে। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালের পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ডে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত জুলফিকার লক্ষণপুর গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে। হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বসতভিটা ও জমিজমা নিয়ে জুলফিকারের সাথে তাঁর আপন চাচাতো ভাইদের দীর্ঘকাল ধরে বিরোধ ও মামলা-পাল্টা মামলা চলে আসছিল।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, সোমবার বিকেলে ওই বিরোধপূর্ণ জমিকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ আহাদ আলী (৬৫), তাঁর ছেলে শাহাজান (৩৫) ও আক্তার (৩০) সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জন অতর্কিতে জুলফিকারের ওপর চড়াও হন। প্রথমে বাগবিতণ্ডা শুরু হলেও মুহূর্তের মধ্যেই তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা সাথে থাকা দেশীয় অস্ত্র, শাবল ও লোহার রড দিয়ে জুলফিকারকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকেন। এতে তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে মুমূর্ষু অবস্থায় জুলফিকারকে উদ্ধার করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রক্তক্ষরণ বন্ধের চেষ্টা করেন। তবে আঘাতের ধরন অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় এবং উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজনে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে বিকেলেই যশোর জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন।

যশোর জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাহাতের মাথায় ও শরীরে ভোঁতা ও ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত রয়েছে, যার ফলে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এই হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে। মনিরামপুর থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *