স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
জামালপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক কিশোরীর শরীরে ভুল গ্রুপের রক্ত প্রয়োগের এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ‘এ নেগেটিভ’ (A-) গ্রুপের রোগীর শরীরে জোরপূর্বক ‘ও পজিটিভ’ (O+) রক্ত পুশ করায় বর্তমানে ১৪ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীর অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত নার্স পলাতক রয়েছেন।

ভুক্তভোগী আফসানা আক্তার নারায়ণগঞ্জের রূপসী এলাকার নিউ মডেল স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পেটে ব্যথা নিয়ে গত মঙ্গলবার জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে অস্ত্রোপচার শেষে তাকে পোস্ট অপারেটিভ কক্ষে রাখা হয়েছিল। স্বজনদের দাবি, বিকেলে কর্তব্যরত নার্স আখি হঠাৎ করেই এক ব্যাগ রক্ত নিয়ে আফসানার শরীরে পুশ করতে শুরু করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার জানানো হয় যে আফসানার রক্তের প্রয়োজন নেই এবং তার গ্রুপও ভিন্ন, কিন্তু নার্স পরিবারের কথা তুচ্ছজ্ঞান করে এবং দুর্ব্যবহার করে রক্ত দেওয়া চালিয়ে যান।
আফসানা মা আঞ্জুয়ারা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “চিকিৎসক রক্ত দেওয়ার কোনো কথা বলেননি। আমরা বারবার বাধা দেওয়া সত্ত্বেও নার্স আখি আমাদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ ব্যবহার করেন এবং জোর করে ভুল রক্ত শরীরে ঢুকিয়ে দেন। এখন আমার মেয়ের জীবন নিয়ে টানাটানি হচ্ছে।”
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান নার্সের গাফিলতির কথা স্বীকার করে জানান, ভুল রক্ত দেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই প্রয়োগ বন্ধ করা হয়েছে। বর্তমানে ওই কিশোরী নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। এ ঘটনায় মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মোসায়েদুল ইসলাম সুমনকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত নার্সের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল প্রশাসন। ছবি সংগৃহীত।


