বটলা সেলিম গ্রেফতার

বটলা সেলিম গ্রেফতার

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে প্রবাসীর স্ত্রীর টাকা ছিনতাইয়ের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চট্টগ্রাম থেকে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ও প্রধান আসামি সেলিম আহমদ ওরফে অনিক ওরফে বটলা সেলিমকে (৩৮) গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সাথে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি লাল রঙের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে এবং আদালতে আসামি নিজের অপরাধ স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

মামলার বিবরণ ও পিবিআই সূত্রে জানা যায়, গত ২২ জুন ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ১১:২০ ঘটিকায় ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ থানাধীন শমসেরনগর পূবালী ব্যাংক শাখা থেকে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। টাকা নিয়ে তিনি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সিএনজিটি আলীনগর ইউনিয়নের আলীনগর চা বাগান ফ্যাক্টরির দক্ষিণ পাশে কালীমন্দির সংলগ্ন সড়কে পৌঁছামাত্র দুটি মোটরসাইকেলে আসা ৪ জন অজ্ঞাতনামা ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে। অস্ত্রের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রেহেনা বেগমের কাছ থেকে ব্যাংক থেকে তোলা ১ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা এবং ব্যাংক চেকসহ ব্যাগটি ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী রেহেনা বেগম বাদী হয়ে কমলগঞ্জ থানায় ৩৯২ পেনাল কোডে একটি ছিনতাই মামলা (মামলা নং-১০, তারিখ: ২৩/০৬/২০২৬ খ্রিঃ) দায়ের করেন।

লোমহর্ষক এই ছিনতাইয়ের পর থেকেই পিবিআই মৌলভীবাজার জেলা ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে পিবিআই হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে মামলাটির স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই মৌলভীবাজার। তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় এসআই (নিঃ) আবুল কাশেমকে।

তদন্তকারী দল ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও নিবিড় বিশ্লেষণ শুরু করে। একই সাথে উন্নত তথ্যপ্রযুক্তি এবং মাঠ পর্যায়ের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার মূল হোতা সেলিম আহমদ ওরফে বটলা সেলিমকে সনাক্ত করা হয়। পরে পিবিআইয়ের একটি বিশেষ দল চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত লাল রঙের মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়, যা পরবর্তীতে বাদী রেহেনা বেগমও সনাক্ত করেছেন।

গ্রেফতারের পর আসামিকে মৌলভীবাজারের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হলে সে স্বেচ্ছায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। জবানবন্দিতে সে ব্যাংক থেকে ভুক্তভোগীর পিছু নেওয়া এবং চা বাগান এলাকায় পথ আটকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পুরো ঘটনার রোমহর্ষক বিবরণ দেয়।

পিবিআই-এর তদন্ত ও আসামির জবানবন্দি থেকে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। গ্রেফতারকৃত বটলা সেলিম একটি অত্যন্ত সুসংগঠিত এবং পেশাদার আন্তঃজেলা ছিনতাই ও দস্যুতা চক্রের সক্রিয় সদস্য। এই চক্রের সদস্যদের অধিকাংশেরই একে অপরের সাথে পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে উঠেছিল বিভিন্ন সময়ে জেলখানায় সাজা খাটার সময়। পরবর্তীতে তারা কারামুক্ত হয়ে পুনরায় পরস্পরের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই কার্যক্রম শুরু করে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত সেলিম আহমদ ওরফে অনিক ওরফে বটলা সেলিমের বিরুদ্ধে সিলেট মহানগর, মৌলভীবাজার জেলা, সিলেট জেলা, সুনামগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, দস্যুতা ও ছিনতাই সংক্রান্ত প্রায় ৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

পিবিআই মৌলভীবাজার জেলা প্রধান জানান, এই সংঘবদ্ধ চক্রের অন্যান্য পলাতক আসামিদের ইতিমধ্যেই সনাক্ত করা গেছে। তাদের গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত বাকি টাকা উদ্ধারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও জোরদার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *