নিজস্ব প্রতিবেদক (কোটচাঁদপুর):
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক কারাবন্দি আসামীর স্ত্রীর ঘরে ঢুকে লঙ্কাকাণ্ড ঘটিয়েছেন ইয়াছিন হোসেন (৩৩) নামে এক যুবক। রোববার সন্ধ্যায় উপজেলার সাফদারপুর বাজারে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়রা ওই যুবক ও নারীকে আটকে রেখে উত্তম-মাধ্যম দিয়েছে বলে জানা গেছে।
সাফদারপুর বাজার এলাকার আব্দুল আজিজের বাড়িতে ভাড়া থাকেন শারমিন খাতুন (২৮)। তাঁর স্বামী আক্তার হোসেন বর্তমানে একটি চেক জালিয়াতি মামলায় জেলহাজতে রয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বামীর অনুপস্থিতিতে ভোমরাডাঙ্গা গ্রামের ইয়াছিন হোসেন নিয়মিত ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। রোববার সন্ধ্যায় ইয়াছিনকে ওই বাসার আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখে এলাকাবাসী ওত পেতে থাকে। যুবকটি ঘরে ঢোকা মাত্রই বাড়িটি চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে স্থানীয় জনতা। একপর্যায়ে ইয়াছিন বারান্দার পাটির নিচে লুকিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। বিক্ষুব্ধ জনতা দুজনকে ধরে গণধোলাই দেয়।
আটক হওয়ার পর ইয়াছিন ও শারমিন উভয়েই দাবি করেন, সরকারি-বেসরকারি চাকরির আলোচনার জন্য তাঁরা সেখানে মিলিত হয়েছিলেন। তবে এলাকাবাসী এই দাবি নাকচ করে দিয়ে একে অনৈতিক সম্পর্কের ‘অজুহাত’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। কারাবন্দি আক্তারের বাবা আমিন উদ্দিন মিস্ত্রি এই ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।
খবর পেয়ে সাফদারপুর পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং উত্তেজিত জনতার হাত থেকে অভিযুক্তদের উদ্ধার করেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় উত্তেজনা এড়াতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সমঝোতা বৈঠক হয়। পরবর্তীতে কোনো মামলা না হওয়ায় উভয়কে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় এখনো চাপা ক্ষোভ ও ব্যাপক গুঞ্জন বিরাজ করছে।
ছবি সংগৃহীত।

