কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা:
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় নিখোঁজ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মেহেদী হাসান (৩২) নামে এক তরুণ মধু ব্যবসায়ীর মরদেহ একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আগের দিন সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়ে আকস্মিক নিখোঁজ হন তিনি। পরদিন সকালে পরিবারের সদস্যরা যখন ভাবছিলেন ছেলে হয়তো পাশের গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছে, ঠিক তখনই খবর আসে কে বা কারা মেহেদীকে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ ডোবায় ফেলে রেখে গেছে। আজ ১৯ জুন ২০২৬ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে কলারোয়া উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের পেছনের একটি মোবাইল ফোন টাওয়ার সংলগ্ন ডোবা থেকে এই মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মেহেদী হাসান কলারোয়া উপজেলার পার্শ্ববর্তী কয়লা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন মধু ব্যবসায়ী ছিলেন।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ঘরে ফেরেননি মেহেদী। স্বজনেরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর কোনো হদিস পাননি। আজ শুক্রবার সকালে জালালাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের স্ত্রী জোহরা খাতুনের বোন সালেহা খাতুন ওই মোবাইল টাওয়ারের পাশের একটি ডোবায় ময়লা ফেলতে যান। এ সময় তিনি ডোবার পানির মধ্যে একটি মানবদেহ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দিলে স্থানীয় আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বাসিন্দারা বিষয়টি কলারোয়া থানা পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুরের দিকে ডোবা থেকে মেহেদীর মরদেহটি উদ্ধার করে ডাঙায় তোলে।
ছেলের এমন আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা মনোয়ারা বেগম। তিনি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বুক চাপড়ে আহাজারি করতে করতে বলেন, “আমার ছেলে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। রাতে আর বাড়ি ফিরে না আসায় আমরা ভেবেছিলাম হয়তো পাশের আলাইপুর গ্রামে তার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে রয়েছে, সেখানে ভালোই আছে। কিন্তু সকালে হঠাৎ কিছু লোক এসে খবর দেয়, কে বা কারা আমার কলিজার টুকরো ছেলেকে জালালাবাদে মেরে ফেলে রেখে গেছে! আমি এখন কাকে নিয়ে বাঁচব?” নিহত মেহেদীর স্ত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কান্নায় এ সময় উপস্থিত প্রতিবেশীদের চোখেও জল চলে আসে।
এ বিষয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শাহীন গণমাধ্যমকে জানান, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে নিহত মধু ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছি। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে উদঘাটনের জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কে বা কারা, কী উদ্দেশ্যে তাকে হত্যা করে এখানে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ফেলে রেখে গেছে, তা উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ শুরু করেছে। এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য প্রয়োজনীয় কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।” ফাইল ছবি সংগৃহীত।


