ইরানের পাশে দাঁড়াল পারমাণবিক শক্তিধর চীন

ইরানের পাশে দাঁড়াল পারমাণবিক শক্তিধর চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : (১৪ মার্চ, ২০২৬)মধ্যপ্রাচ্যের চরম উত্তেজনার মধ্যে ইরানের প্রতি সরাসরি সংহতি প্রকাশ করেছে এশিয়ার পরাশক্তি চীন। দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে বেইজিং। এই নৃশংস হামলায় বিপুল সংখ্যক শিশু প্রাণ হারানোয় ইরানের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছে চীনা সরকার।

শুক্রবার বেইজিং থেকে জানানো হয়েছে, মিনাবের সেই ভয়াবহ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ২ লাখ মার্কিন ডলারের জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। চীনা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মাধ্যমে এই সহায়তা সরাসরি ভুক্তভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। বেইজিং মনে করে, সংকটের এই মুহূর্তে ইরানের জনগণের পাশে দাঁড়ানো তাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুয়ো জিয়াকুন এই আক্রমণকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, “নিরপরাধ শিশুদের ওপর এই ধরণের বর্বরোচিত হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” বেইজিংয়ের এই অবস্থান ওয়াশিংটনের ওপর বড় ধরণের আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিতিশীলতাকে বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি উল্লেখ করে চীন অবিলম্বে সামরিক অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছে। গুয়ো জিয়াকুন বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি বিশ্বশক্তিগুলোর সম্মান প্রদর্শন করা উচিত। সামরিক শক্তি প্রদর্শনের চেয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে চীন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ ইরানের মিনাব শহরের শাজারাহ তায়্যিবাহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মার্কিন ‘টমাহক’ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ওই ভয়াবহ হামলায় অন্তত ১৬৫ জন শিশু শিক্ষার্থী নিহত হয়। একই অভিযানে ১ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারান এবং আহত হন ১০ হাজারেরও বেশি। এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পর চীনের এই সরাসরি পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন কোনো বড় সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সূত্র-আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা                                                                                                                                                                                    ছবি-সংগৃহীত

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *