১২ বছরের শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে শ্রীঘরে মাদরাসার অধ্যক্ষ !

১২ বছরের শিশুকে বলাৎকারের অভিযোগে শ্রীঘরে মাদরাসার অধ্যক্ষ !

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে একটি আবাসিক হিফজ মাদরাসার ১২ বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীকে নিজের শয়নকক্ষে ডেকে নিয়ে বলাৎকার করার অবর্ণনীয় ও জঘন্য অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার (১৯ জুলাই ২০২৬) রাতে স্থানীয় জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখলে পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবারের দায়েরকৃত সুনির্দিষ্ট মামলায় ওই অধ্যক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত শিক্ষকের নাম আব্দুল আহাদ। তিনি চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী ইউনিয়নের দিঘলী রাস্তার মাথা এলাকায় অবস্থিত ‘পপুলার আইডিয়াল হিফজ মাদরাসা’র অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদ ওই আবাসিক শিক্ষার্থীকে তার ব্যক্তিগত কক্ষে ডেকে নেন। সেখানে কোনো প্রতিরোধ করার সুযোগ না দিয়ে অবুঝ শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। এই চরম ট্রমার ভেতর পরদিন রবিবার দুপুরে ওই শিক্ষার্থী কৌশলে মাদরাসা থেকে পালিয়ে নিজের বাড়িতে চলে যায়। বাড়িতে পৌঁছেই শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং তার মায়ের কাছে শিক্ষকের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ও পৈশাচিক আচরণের পুরো বিবরণ দেয়।

ঘটনাটি জানার পর ভুক্তভোগী শিশুর অভিভাবক ও ক্ষুব্ধ প্রতিবেশীরা তাৎক্ষণিকভাবে ওই মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আব্দুল আহাদকে হাতেনাতে আটক করে গণধোলাই দেওয়ার প্রস্তুতি নেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার খবর পেয়ে চন্দ্রগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এই পৈশাচিক ঘটনার পর থেকে ১২ বছরের অবুঝ শিশুটি চরম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সেই মামলায় অভিযুক্ত অধ্যক্ষকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। আসামিকে যথাযথ পুলিশি পাহারায় আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

ওসি আরও জানান, ঘটনার শিকার শিশুটিকে উদ্ধার করে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানীয় সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুরো ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো বিষয় বা অন্য কোনো শিশুর ওপর এমন নির্যাতন চালানো হয়েছে কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করছে পুলিশ। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *