স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া হামের প্রকোপে বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের আইনি বিচার দাবি করেছেন ভুক্তভোগী স্বজনরা। রোববার বিকেলে মিরপুর-১০ নম্বরে গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে এই দাবি তুলে ধরা হয়। ‘হিউম্যানিটারিয়ান ইউনিটি উইথ মোরালিটি’ (এইচইউএম) নামক সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক শাকিল আহমেদ।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ড. ইউনূসের শাসনামলে স্বাস্থ্য খাতের চরম অব্যবস্থাপনা এবং টিকার অর্থ লুটপাটের ফলে দেশে প্রায় নির্মূল হওয়া হাম আবারও মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৪ জনে। আক্রান্ত ৪০ হাজার ৪৯১ জনের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশই শিশু।
সংগঠনের আহ্বায়ক হাসান আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে ভুল সিদ্ধান্তের কারণে দেশে টিকার সংকট তৈরি হয়। বিশেষ করে ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের দীর্ঘদিনের সফল পদ্ধতি বন্ধ করে দিয়ে উন্মুক্ত দরপত্র চালু করায় আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বারবার সতর্কবাণী সত্ত্বেও তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এই হঠকারী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়। যার ফলে ২০২৫ সালে যোগ্য শিশুদের মাত্র ৫৯ শতাংশ টিকার আওতায় এসেছে।
মানববন্ধন থেকে তিন দফা দাবি পেশ করা হয়: ১. হামে মৃত শিশুদের পরিবারকে ড. ইউনূস ও নূরজাহান বেগমের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে। ২. টিকা সংগ্রহে ব্যর্থতা ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকে দাখিলকৃত আবেদনের দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। ৩. এই অবহেলার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
কর্মসূচি চলাকালে সাধারণ পথচারীরাও সংহতি প্রকাশ করে ক্ষোভ উগড়ে দেন। বক্তারা বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তারা ড. ইউনূস সরকারের এই চরম ব্যর্থতা কাটিয়ে পুনরায় ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ শুরু করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন নাট্যকর্মী এহসানুল আজিজ বাবু, এস এম কামরুজ্জামান সাগর ও ব্যবসায়ী মেজবাহ আহমেদ। ছবি সংগৃহীত।


