সোনা ও নগদ ১০ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে মামলা

সোনা ও নগদ ১০ লাখ টাকা চুরির অভিযোগে মামলা

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়া পুত্রবধুকে সংশোধনের চেষ্টা করলে উল্টো সোনার গহনা টাকা-পয়সা চুরি করে পালিয়েছে। আর এই কাজে ওই পুত্রবধূর মাসহ তার আত্মীয়-স্বজনরা সহযোগিতা করেছে। এইরকম একটি অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার (২২ এপ্রিল) আদালতে মামলা করেছেন যশোর সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের স্ত্রী তৈয়বা খাতুন।
অভিযুক্তরা হলেন, তার পুত্রবধূ সিলেট কোতোয়ালি থানার তোপখানায় এলাকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে সানজিদা আক্তার সাথী,সাথীর মা শ্যামলী বেগম, মামা জালাল হোসেন, খালা যশোর সদর উপজেলার বালিয়া ভেকুটিয়া গ্রামের শরীফ মিয়ার স্ত্রী সুমী বেগম এবং প্রতিবেশী আবু বক্কারের ছেলে নাসির আলী।
সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলাম অভিযোগটি আমলে নিয়ে তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য পিবিআই যশোর কে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে তৈয়বা খাতুন উল্লেখ করেছেন, ২০২১ সালের ১৫ ই নভেম্বর অভিযুক্ত সাথীর সাথে তার ছেলে আব্দুল হাকিমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর সংসারের উন্নতি ও ভালো জীবন যাপনের আশায় তার ছেলে আব্দুল হাকিম ২০২৩ সালে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে চলে যান। আর সাথী তার বাড়িতেই থাকেন। কিছুদিন পর লক্ষ্য করা যায় সাথীর চলাফেরা অন্যরকম। বাড়ির কাউকে কিছু না বলে যেখানে সেখানে চলে যান। সারাক্ষণ মোবাইল ফোন, হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারে বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা বলতে থাকেন। একটা সময় লক্ষ্য করা যায় সে তার খালাতো ভাই রিয়াদের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে তাকে বহুবার সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু বরাবরই সে শাশুড়িসহ বিভিন্ন লোকজনের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। বিদেশে থাকা অবস্থায় তার স্বামী আব্দুল হাকিম জানতে পারেন এবং সাথীকে বকাঝকা করেন। এতে সাথী আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আরো বেশি দুরব্যবহার শুরু করে পরিবারের সদস্যদের উপর। তাকে সঠিক পথে আনার জন্য তার মাসহ অন্যান্য আসামীকে যশোরে আসতে বলা হয়।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি আসামিরা তার বাড়িতে আছেন এবং আলোচনায় বসেন। সেখানে আব্দুল হাকিমের রেখে যাওয়া সোনার গহনা ও ছয় লাখ টাকা কি করেছে এ বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়। সে সময় সাথী ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। পরদিন আবার আলোচনা হবে এই কথায় সকলে ঘুমিয়ে পড়ে। ৭ ফেব্রুয়ারি ভোরে ঘুম থেকে উঠে দেখেন সাথীসহ সকল আসামি নেই। বাড়ির কাউকে কিছু না বলে তারা চলে গেছে। যাওয়ার সময় ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের সোনার গহনা এবং নগদ ৬ লাখ টাকা নিয়ে গেছে। তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোন উত্তর দেয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি আদালতে করেছেন।

ফাইল ছবি (সংগৃহীত)।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *