সন্ধ্যা রাতে চৌগাছায় যুবক খুন!

সন্ধ্যা রাতে চৌগাছায় যুবক খুন!

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি :

যশোরের চৌগাছা উপজেলায় রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তদের উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ঝন্টু মিয়া (৩০) নামের এক যুবক নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। একই সময়ে হামলায় আশানুর রহমান (৩২) নামের অপর এক যুবক গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চৌগাছা উপজেলার পাশ্ববর্তী দক্ষিণসাগর গ্রামে এই নৃশংস হতাহতের ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় ও এলাকা সূত্রে জানা গেছে, নিহত ঝন্টু মিয়া ও আহত আশানুর রহমান মঙ্গলবার রাতে দক্ষিণসাগর গ্রামের একটি নির্জন স্থানে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্ব শত্রুতা বা আকস্মিক একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র ও ধারালো ছুরি নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা দুই যুবককে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত ও কোপাতে থাকে।

ছুরির আঘাতে ঝন্টু মিয়ার বুক ও পেটে মারাত্মক জখম হলে তিনি ঘটনাস্থলেই ফিনকি দিয়ে রক্ত ছুটে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অন্যদিকে আশানুর রহমান নিজেকে বাঁচাতে গেলে তাঁর শরীরেও গভীর কাটা জখম হয়। তাদের চিৎকার শুনে আশেপাশের গ্রামবাসী ও রক্তাক্ত অবস্থায় প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে দুর্বৃত্তরা রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে দ্রুত চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঝন্টু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে গুরুতর আহত আশানুর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এবং ক্ষত গভীর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কড়া পর্যবেক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খবর পেয়ে চৌগাছা থানা পুলিশ ও যশোর জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। একই সাথে আহত আশানুরের জবানবন্দি নেওয়ার জন্য যশোর হাসপাতালেও পুলিশের একটি টিম অবস্থান করছে।

চৌগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দক্ষিণসাগর গ্রামে ছুরিকাঘাতে একজন নিহত ও একজন আহত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কি কারণে এবং কারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে ঘটনার সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে এলাকায় পুলিশের চিরুনি অভিযান শুরু হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে পুরো দক্ষিণসাগর গ্রামজুড়ে থমথমে পরিস্থিতি ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *