শহিদ জয়:
স্থানীয় পর্যায়ের হাসপাতাল ও মেডিকেল বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের নিয়ে যশোরে ‘এইচআইভি, মানবাধিকার ও নৈতিক স্বাস্থ্য সাংবাদিকতা’ বিষয়ক এক গুরুত্বপূর্ণ ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এই সচেতনতামূলক সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
ওরিয়েন্টেশনে স্বাস্থ্য, মানবাধিকার ও সামাজিক সংবেদনশীলতা বিবেচনা করে এইচআইভি-সম্পর্কিত সংবাদ পরিবেশনে দায়িত্বশীল ও নৈতিক সাংবাদিকতার গুরুত্ব বিশদভাবে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি লিঙ্গ সংবেদনশীলতা, এইচআইভি বিষয়ে কুসংস্কার দূরীকরণ এবং মানবাধিকারভিত্তিক সংবাদ পরিবেশনের বিভিন্ন কারিগরি ও আইনি দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে যশোর জেলার এইচআইভি সংক্রমণের একটি সাম্প্রতিক ও উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়। তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৫ জুন (২০২৬) পর্যন্ত যশোর জেলায় নতুন করে ৩৫ জন এইচআইভি পজিটিভ (HIV Positive) হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে, তাঁদের মধ্যে ইতিমধ্যে ৬ জন মারা গেছেন।
নতুন আক্রান্তদের বিস্তারিত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শনাক্তদের মধ্যে ৮ জন বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরা প্রবাসী কর্মী, ৫ জন বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থী, ১০ জন সমকামী এবং ৬ জন সাধারণ জনগোষ্ঠীর সদস্য। আক্রান্তদের সিংহভাগের বয়সই ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে—যা যুবসমাজের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।
ওরিয়েন্টেশন শেষে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আহসান কবির বাপ্পি জানান, চলতি বছর জেলার ১ হাজার ২০০-এর বেশি সন্দেহভাজন ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তির রক্ত পরীক্ষা করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি এখন সাধারণ মানুষের মধ্যেও সংক্রমণের হার বাড়ছে। সময়মতো কাউন্সেলিং, পরীক্ষা ও সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হতে পারে বলে চিকিৎসকেরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ডা. একেএম রাফিদ হোসেনের চমৎকার উপস্থাপনায় অনুষ্ঠিত এই ওরিয়েন্টেশনে উপস্থিত ছিলেন— যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হোসাইন সাফায়েত, আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আহসান কবির বাপ্পি, আরএমও ডা. হাবিবা সুলতানা ফোয়ারা, এইচআইভি প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ডা. কানিজ ফাতেমা এ্যানিসসহ স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার গণমাধ্যমকর্মীরা।
বক্তারা অত্যন্ত জোর দিয়ে বলেন, এইচআইভি আক্রান্ত ব্যক্তিদের মানবাধিকার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষা করে সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আক্রান্তদের পরিচয় প্রকাশ করে তাঁদেরকে সামাজিক কলঙ্ক (Social Stigma) ও বৈষম্যের মুখোমুখি করা যাবে না। বরং সঠিক তথ্য প্রচার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে এইচআইভি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমকে এক যুগান্তকারী ও ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।
উক্ত অনুষ্ঠানে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং স্থানীয় জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকবৃন্দ অংশ নেন। ছবি সংগৃহীত।

