স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় নিজ বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মা ও মেয়ের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের শরীরে পারিবারিক কলহের জেরে মৃত্যুর পূর্বে মারধর করার গুরুতর অভিযোগ আসায় ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) বিকেলে উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের ছোট চণ্ডীপুর কালীরহাট এলাকা থেকে লাশ দুটি উদ্ধার করে পার্বতীপুরের আমবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র।
এই বেদনাদায়ক ঘটনায় নিহতরা হলেন— ছোট চণ্ডীপুর কালীরহাট এলাকার বাসিন্দা রিপেন চন্দ্র রায়ের স্ত্রী ছবি রানী (৪০) এবং তাঁদের একমাত্র কিশোরী কন্যা পল্লবী রানী (১৫)।
স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার দুপুরের পর ঘরের ভেতর কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে বাড়ির মালিক রিপেন চন্দ্র রায় স্থানীয় ইউপি সদস্য (মেম্বার) মো. ইয়াকিন আলীকে খবর দেন। ইউপি সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মা ও মেয়ের মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরবর্তীতে তাঁর মাধ্যমে খবর পেয়ে আমবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি দল বিকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে লাশ দুটি উদ্ধার করে।
এদিকে এই মর্মান্তিক ও রহস্যজনক জোড়া মৃত্যুর নেপথ্যে একটি পারিবারিক অশান্তির খবর সামনে এনেছেন প্রতিবেশীরা। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০ থেকে ১২ দিন আগে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী পল্লবী রানী পরিবারের অমতে ও অমঞ্জুরিতে পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী উপজেলা এলাকায় এক যুবককে বিয়ে করেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের এমন আকস্মিক বিয়ের পর থেকেই রিপেন চন্দ্র রায়ের পরিবারে তীব্র মানসিক অশান্তি ও কলহ চলছিল।
অভিযোগ উঠেছে, ঘটনার দিন সোমবার সকালেও এই পারিবারিক বিষয় ও সামাজিক লোকলজ্জা নিয়ে গৃহকর্তা রিপেন চন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ছবি রানী ও মেয়ে পল্লবীর তুমুল বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁদের মারধর করার ঘটনাও ঘটে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এর কিছু সময় পর ঘরের ভেতর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মা ও মেয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাওয়া যায়। এটি পারিবারিক নির্যাতনের জেরে কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি চরম অভিমানে মা-মেয়ের একযোগে বেছে নেওয়া আত্মহননের পথ, তা নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে আমবাড়ী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (আইসি) মো. কামাল হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, “খবর পেয়ে আমরা ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে মা ও মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মৃত্যুর সঠিক রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা। তবে ঘটনাটির পেছনে যে পারিবারিক কলহ ছিল, তা আমরা জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলার পাশাপাশি পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চাক্ষুষভাবে চলমান রয়েছে। ঘটনার সাথে কারও অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা থাকলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।” ছবি সংগৃহীত।


