মাংস বণ্টন নিয়ে রণক্ষেত্র

মাংস বণ্টন নিয়ে রণক্ষেত্র

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

পবিত্র ঈদুল আজহার ত্যাগের মহিমাকে ম্লান করে দিয়ে কোরবানির মাংস বণ্টন ও সংরক্ষণ নিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় দুই পক্ষের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মাংস ‘মসজিদে রাখা হবে নাকি নিজেদের বাড়িতে নেওয়া হবে’—এমন এক অদ্ভুত ও তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে ঘটা এই সংঘর্ষে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ মে, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার আলগী ইউনিয়নের পূর্ব আড়ুয়াকান্দী গ্রামে এই লঙ্কাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ সকালে ঈদের জামাত শেষ হওয়ার পর গ্রাম্য রীতি অনুযায়ী কোরবানির পশুর মাংস এক জায়গায় করা এবং তা সংরক্ষণ নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর মধ্যে এক পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন আবু বকর মুন্সী এবং অন্য পক্ষের হাল ধরেন কামরুজ্জামান সম্রাট। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে দুই নেতার সমর্থকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে পুরো গ্রাম রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এবং উভয় পক্ষ লাঠিসোঁটা, ঢাল-সড়কি ও দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

দফায় দফায় চলা এই হিংস্র সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন সাধারণ মানুষ ও সমর্থক রক্তাক্ত জখম হন। ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করেন। আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে ঈদের দিনে গ্রামে এমন বড় ধরণের সংঘর্ষের খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। তারা লাঠিচার্জ ও তৎপরতা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলার সুরক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) পরেশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শক্ত হাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও শান্ত রয়েছে। তিনি আরও জানান, এই সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পাওয়া মাত্রই জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *