প্রাক্তন ছাত্রের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩৯ নং নিত্যানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা সংস্কার

প্রাক্তন ছাত্রের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ৩৯ নং নিত্যানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের রাস্তা সংস্কার

রফিক মন্ডল, হরিণাকুণ্ডু( ঝিনাইদহ) থেকে ফিরে :

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডু উপজেলার ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত ৩৯ নং সাবেক নিত্যানন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দীর্ঘ প্রায় ৯ দশকের যাতায়াত সমস্যার অবসান হয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র ও জেলা সাবেক শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ আয়ুব হোসেন রানা ব্যক্তিগত উদ্যোগে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় এই কাঁচা রাস্তাটি সংস্কার করে দিয়েছেন। মঙ্গলবার (৫ মে) নবনির্মিত এই রাস্তা দিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ করেন তিনি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত এই বিদ্যালয়েই প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন আয়ুব হোসেন রানা। তৎকালীন সময় থেকেই বিদ্যালয়ে যাতায়াতের কোনো পাকা বা সুগম রাস্তা ছিল না। বর্ষা মৌসুমে কাদা-পানির কারণে শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এই কষ্ট লাঘবে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন যে, রাস্তা সংস্কার না করে তিনি পুনরায় বিদ্যালয়ে পা রাখবেন না। আজ সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে তিনি রাজকীয়ভাবে রাস্তা দিয়ে হেঁটে স্কুল প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন।

রাস্তাটি সংস্কারের বিষয়ে মোঃ আয়ুব হোসেন রানা জানান, এই মহতী কাজে তাকে বিশেষভাবে সহায়তা করেছেন তার পরম সুহৃদ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বাবুল মিয়া। এছাড়াও হরিণাকুণ্ডু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং এলজিইডি’র উপজেলা প্রকৌশলী সার্বিক তদারকি ও প্রশাসনিক সহযোগিতা প্রদান করেছেন।

সাবেক এই কর্মকর্তা বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, আজ রাস্তার ওপর দিয়ে স্কুলে যেতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। কৃতজ্ঞতা জানাই আমার রুমমেট স্নেহভাজন বাবুল মিয়াকে, যার ঐকান্তিক চেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে। ধন্যবাদ জানাই স্থানীয় এলাকাবাসীকে, যারা রাস্তার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবে জমি দিয়ে সহযোগিতা করেছেন।”
বিদ্যালয়ের শিক্ষকমন্ডলী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এই রাস্তা সংস্কারের ফলে এখন থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেকোনো আবহাওয়ায় নিরাপদে এবং স্বাচ্ছন্দ্যে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে পারবে। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। ছবি প্রতিবেদক।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *