বেনাপোল প্রতিনিধি :
বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত বেনাপোল-খুলনা রুটের ‘বেতনা কমিউটার’ এবং বেনাপোল-মোংলা রুটের ‘মোংলা কমিউটার’ ট্রেনের বাণিজ্যিক কার্যক্রমের চুক্তি বাতিল করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ । নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ট্রেনের নির্ধারিত ভাড়া, ভ্যাট ও উৎস করের পাওনা টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ফলে ট্রেন দুটি আবারও সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলাচল শুরু করেছে, যাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রী ও নাগরিকেরা ।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৭ এপ্রিল বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহীর চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (পশ্চিম) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল দরপত্র আহ্বানের পর যাচাই-বাছাই শেষে ঢাকার মিরপুর দারুস সালাম রোডের ‘এইচ এন্ড এম ট্রেডিং কর্পোরেশন’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে তিন বছরের জন্য কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের ১১ জানুয়ারি থেকে ট্রেন দুটি পরিচালনা শুরু করলেও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাওনা পরিশোধে ব্যর্থ হয়। এর ফলে ২৮ এপ্রিল থেকে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল ঘোষণা করা হয়।
ট্রেন দুটি পুনরায় সরকারি তদারকিতে আসায় যাত্রী সাধারণের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। যাত্রী আরিফা বেগম ও মোজাম্মেল হক জানান, সরকারি তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি চোরাই পণ্য পরিবহন রোধে সতর্কতা এবং বগি সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তারা রেলের অব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে যাত্রী সেবার মান বাড়ানোর দাবি জানান।
বেনাপোল রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার পারভিনা খাতুন জানান, সরকারি ব্যবস্থাপনায় ফিরে আসায় যাত্রী যাতায়াত বাড়ছে এবং সেই সাথে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরও জানান যে, যাত্রী সেবায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সালের ২৩ নভেম্বর এই রুটে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল শুরু হয়। এর আগে ২০১০ সাল পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় চলার পর বিভিন্ন সময় বেসরকারি খাতে লিজ দেওয়া হয়েছিল। তবে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় সেবার মান নিম্নমুখী হওয়া এবং চোরাকারবারিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যাওয়ায় ২০১৩ সালে এটি পুনরায় সরকারি অধীনে আসে। পরবর্তীতে ২০১৭ সাল থেকে লাভজনক এই রুটে দিনে দুবার করে কমিউটার ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ছবি সংগৃহীত।


