পাটক্ষেতে মিললো ১৬ বছরের কিশোর সাকিবুলের লাশ

পাটক্ষেতে মিললো ১৬ বছরের কিশোর সাকিবুলের লাশ

স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দ্রুত গতিতে চালানো এবং ঝগড়াকে কেন্দ্র করে কিশোর চালক সাকিবুলকে (১৬) নির্মমভাবে শ্বাসরোধে হত্যার ক্লুলেস মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলাটি স্ব-উদ্যোগে গ্রহণের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে তারা। গ্রেপ্তারকৃত ঘাতক আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের দোষ স্বীকার করে লোমহর্ষক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

মামলার বিবরণী ও পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর মিতরা এলাকার বাসিন্দা কিশোর সাকিবুল তার বাবা রহমত আলী অসুস্থ থাকায় সংসারের হাল ধরতে মাঝে মাঝে বাবার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাত। গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ বিকেল ৩টার দিকে সে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেনি। পরদিন ১ জুলাই ভোরে সিংগাইর থানাধীন জামশা ইউনিয়নের গোলাই নতুনপাড়া এলাকায় রাস্তার পাশের একটি পাটক্ষেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পিতা রহমত আলী বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পিবিআই-এর সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ৮ জুলাই ২০২৬ তারিখে পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলা স্ব-উদ্যোগে এর তদন্তভার গ্রহণ করে।

তদন্তভার পাওয়ার পরপরই পিবিআই-এর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ রবিউল ইসলাম তথ্য-প্রযুক্তি এবং নিপুণভাবে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে যাত্রীবেশে থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। পরে ছদ্মবেশে গোপন অনুসন্ধান ও স্থানীয় তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে আসামির পরিচয় নিশ্চিত করে গত ৮ জুলাই বিকেল ৬টায় সাভারের হেমায়েতপুরের যাদুরচর এলাকার মাদ্রাসাগেট থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির নাম আসাদুজ্জামান আসাদ।

পিবিআই-এর কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ ও বিজ্ঞ আদালতে আসামির দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি থেকে জানা যায়, শারীরিকভাবে অসুস্থ আসাদ গত ৩০ জুন সন্ধ্যায় মিতরা স্ট্যান্ড থেকে সাকিবুলের অটোরিকশায় চড়ে গোলাইডাঙ্গার উদ্দেশ্যে রওনা হন। বৃষ্টির মধ্যে ভাঙাচোরা সড়কে চালক সাকিবুল দ্রুত গতিতে গাড়ি চালালে আসাদ তাকে ধীরে চালানোর অনুরোধ করেন। চালক সেই অনুরোধ উপেক্ষা করলে ঝাঁকুনির কারণে আসাদ সিট থেকে পড়ে গিয়ে কোমরে গুরুতর ব্যথা পান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি চালককে একটি থাপ্পড় মারেন, যার ফলে অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়।

দুর্ঘটনার পর ভিকটিম সাকিবুল ক্ষিপ্ত হয়ে আসাদ ও তার বাবা-মাকে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করলে উভয়ের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তারা দুজনেই রাস্তার পাশের পাটক্ষেতে পড়ে যান। সেখানে আসাদ রাগ সামলাতে না পেরে কিশোর সাকিবুলকে উপর্যুপরি মারধর করেন, তার মুখ চেপে ধরেন এবং ঘাড়ের ওপর কনুই দিয়ে প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর মরদেহটি পাটক্ষেতের গভীর ভেতরে ফেলে রেখে নিজের স্যান্ডেল জোড়া ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে আসাদ কৌশলে পালিয়ে যান।

পিবিআই মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে অন্য আরও কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত আছে কিনা তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং মামলার আইনগত তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *