দুর্ধর্ষ খুনি ওবায়দা র‍্যাবের খাঁচায়,র‍্যাব-৬-এর মধ্যরাতের অ্যাকশন

দুর্ধর্ষ খুনি ওবায়দা র‍্যাবের খাঁচায়,র‍্যাব-৬-এর মধ্যরাতের অ্যাকশন

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের চৌগাছা উপজেলার দক্ষিণসাগর গ্রামে কিশোরী অপহরণের জেরে আয়োজিত এক গ্রাম্য সালিশ বৈঠক শেষে প্রতিপক্ষের অতর্কিত ও বর্বরোচিত ছুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হওয়া ঝন্টু মিয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি আবু ওবায়দাকে অবশেষে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। গতকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) গভীর রাতে র‍্যাব-৬-এর অধীনস্থ ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করে তাকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হয়। গত ১৯ মে রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চৌগাছা উপজেলার দক্ষিণসাগর গ্রামে এই বর্বরোচিত ও রোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটেছিল। নিহত ঝন্টু মিয়া উপজেলার মাড়ুয়া গাজীপুরের শফিয়ার রহমানের ছেলে ছিলেন। এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় নিহত ঝন্টুর আপন ভাই আশানুর রহমানও মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন, যিনি বর্তমানে মুমূর্ষু অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর থেকেই প্রধান খুনি ওবায়দা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপন করে ছিল।

নিহতের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার কয়েকদিন আগে ঝন্টুর ১৪ বছর বয়সী নাবালিকা মামাতো বোন জুঁইকে দক্ষিণসাগর গ্রামের আমির হোসেনের বখাটে ছেলে শান্ত মিয়া জোরপূর্বক অপহরণ করে নিয়ে যায়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৯ মে রাতে স্থানীয় মাতব্বরদের উপস্থিতিতে গ্রামে একটি সামাজিক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘক্ষণ চলা সেই সালিশে অপহৃত কিশোরীকে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে বৈঠক শেষ হওয়ার ঠিক পরপরই দুই পক্ষের মধ্যে পুনরায় তীব্র কথা-কাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বখাটে শান্ত মিয়ার পক্ষের প্রভাবশালী আবু ওবায়দাসহ কয়েকজন দেশীয় ধারালো অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হঠাৎ করেই ঝন্টু মিয়া ও তাঁর ভাই আশানুর রহমানের ওপর উপর্যুপরি ও নৃশংস হামলা চালায়। হামলাকারীরা দুই ভাইকে লক্ষ্য করে যত্রতত্র ও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে ফেলে রেখে বীরদর্পে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন মারাত্মক রক্তাক্ত অবস্থায় দুই ভাইকে উদ্ধার করে দ্রুত চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ঝন্টু মিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে আশানুর রহমানের শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে চিকিৎসকেরা তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

এই নির্মম ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত ঝন্টুর পরিবারের পক্ষ থেকে আবু ওবায়দাকে প্রধান আসামি করে চৌগাছা থানায় একটি নিয়মিত হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পর থেকেই জেলা পুলিশ ও র‍্যাব আসামিদের গ্রেফতারে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। অবশেষে গতকাল রাতে ওবায়দার সুনির্দিষ্ট অবস্থানের তথ্য পেয়ে র‍্যাব-৬ ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের একটি টিম সফল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এই বিশেষ আভিযানিক সফলতার বিষয়টি নিশ্চিত করে র‍্যাব-৬ যশোরের দক্ষ কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফজলে রাব্বি সংবাদ মাধ্যমকে জানান, আটককৃত আবু ওবায়দাকে কড়া পাহাড়ায় ইতিমধ্যেই যশোরে নিয়ে আসা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আজ শুক্রবার (৫ জুন, ২০২৬) বিকেলের মধ্যেই ধৃত আসামিকে সুনির্দিষ্ট হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে যশোর বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত বাকি আসামিদেরও দ্রুততম সময়ে আইনের আওতায় আনতে র‍্যাবের চিরুনি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি রাজপথে জোরালোভাবে অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *