স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের দাম বাড়ানোর রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে ইউনিট প্রতি ৭০ পয়সা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৮০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়ানোর একটি প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। মন্ত্রিসভার সম্মতি পেলে এই প্রস্তাবটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) পাঠানো হবে।
বিদ্যুৎ বিভাগের সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে এবং ভর্তুকির চাপ কমাতে তিনটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়িয়ে ৫ হাজার থেকে সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এর ওপর ১৮ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় বেড়েছে এলপি গ্যাসের দাম। এই পরিস্থিতির মধ্যে বিদ্যুতের দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ গ্রাহকদের মতে, বিদ্যুৎ বিল বাড়লে আনুষঙ্গিকভাবে বাড়িভাড়া ও অন্যান্য সেবামূল্যও বেড়ে যাবে, যা ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দেবে।
ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাব-এর জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামসুল আলম মনে করেন, দাম না বাড়িয়ে অপচয় ও অযৌক্তিক ব্যয় কমিয়েই এই ঘাটতি সমন্বয় করা সম্ভব। তিনি বলেন, “কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি ব্যবহার করা গেলে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক দামি বিদ্যুতের ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে বছরে প্রায় ৩০০ কোটি টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করা সম্ভব।”
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানিয়েছেন, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত উচ্চপর্যায়ের মন্ত্রিসভা কমিটি এই দাম সমন্বয়ের বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
ফাইল ছবি, সূত্র কল্যান।

