স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় বসতবাড়ির জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হাবিবুর রহমান (৩৪) নামে এক যুবককে ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। আজ শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার জামালপুর গ্রামে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটে। আহত হাবিবুর রহমান ঝিকরগাছা উপজেলার জামালপুর গ্রামের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমানের ছেলে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, বসতবাড়ির পাশের একটি জমির সীমানা ও মালিকানা নিয়ে হাবিবুর রহমানদের সাথে তাঁদের প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিন ধরে তীব্র বিরোধ ও মামলা-মোকদ্দমা চলে আসছিল। আজ শনিবার বিকেলে ওই বিতর্কিত জমিকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা চরম উত্তেজনা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে প্রতিবেশী নুরুজ্জামান (৫০), আহাদ (২৪), তরিকুল ইসলাম (৪২) এবং তাদের সাথে থাকা অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জন সহযোগী সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে ধারালো দা ও লাঠিসোঁটা নিয়ে হাবিবুর রহমানের ওপর চড়াও হয়। হামলাকারীরা ধারালো দা দিয়ে হাবিবুর রহমানের মাথায় সজোরে আঘাত করলে তাঁর মাথা কেটে রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
হামলার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা হাবিবুর রহমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে দ্রুত ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর মাথায় প্রাথমিক চিকিৎসা ও সেলাই দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে যশোর ২৫0 শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে রেফার করেন। বর্তমানে তিনি যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এলাকায় এই হামলার পর সাময়িক উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরবর্তীতে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এই বিষয়ে ঝিকরগাছা থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশ হাসপাতাল ও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ বা নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ছবি সংগৃহীত।


