স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য সামগ্রী তৈরি এবং ভোক্তা অধিকার আইন অবমাননার দায়ে যশোরের চার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে বড় অঙ্কের আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। জেলা সদর ও মণিরামপুর উপজেলায় পৃথক দুটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সর্বমোট এক লাখ টাকা জরিমানা আদায় করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। আজ সোমবার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান খানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে এই বিশেষ তদারকিমূলক অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযান সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র মুজিব সড়কে অবস্থিত সুপরিচিত খাদ্য বিপণি ‘ঝটপট ফাস্টফুড’-এ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের প্রমাণ মেলায় তাকে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই দিনে মণিরামপুর উপজেলায় পরিচালিত অপর অভিযানে মরণব্যাধি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে এমন পরিবেশের জন্য ‘আজমীর বেকারি’কে ২০ হাজার টাকা, ‘বনফুল’কে ২০ হাজার টাকা এবং ‘রাফি-সিমাম বেকারি’কে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও অধিকার সুরক্ষায় নিয়মিত তদারকির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অভিযান চলাকালে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্যের গুণগত মান, রান্নাঘরের স্বাস্থ্যবিধি এবং পণ্যের মোড়কে মূল্যতালিকা যথাযথভাবে টাঙানো আছে কি না তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা হয়। আইন লঙ্ঘনের অকাট্য প্রমাণ মেলায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের বিভিন্ন ধারা মোতাবেক জরিমানা আদায় করা হয়।
অভিযান শেষে অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান খান গণমাধ্যমকে জানান যে, সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা এবং বাজার ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তারা বদ্ধপরিকর। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের এই লড়াইয়ে কোনো ধরনের আপস করা হবে না এবং জনস্বার্থে এই ধরনের ঝটিকা ও নিয়মিত অভিযান আগামী দিনগুলোতেও সমানতালে অব্যাহত থাকবে। অভিযান চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি চৌকস দল সার্বিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা প্রদান করে। ছবি সংগৃহীত।


