চুরামনকাটিতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারী নিহত

চুরামনকাটিতে ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত নারী নিহত

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাঠি এলাকায় অসাবধানতাবশত রেললাইনের ওপর দিয়ে হাঁটার সময় চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে অজ্ঞাতপরিচয় (আনুমানিক মধ্যবয়সী) এক নারীর মর্মন্তুদ মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (১৭ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চূড়ামনকাঠি গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেহেরুল্লাহ নগর রেলস্টেশনের সংলগ্ন রেললাইনে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ওই নারীর নাম-ঠিকানা বা কোনো প্রকার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ি ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকেলে অজ্ঞাতনামা ওই নারী রেললাইনের ওপর দিয়ে অসাবধানতাবশত ও অসচেতনভাবে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ওই সময় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা খুলনাভিমুখী ডাউন ‘মহানন্দা লোকাল ট্রেন’টি তীব্র গতিতে মেহেরুল্লাহ নগর রেলস্টেশন এলাকা অতিক্রম করছিল। ট্রেন আসার সংকেত বা হুইসেল খেয়াল না করায় ওই নারী সরাসরি চলন্ত ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। ট্রেনের চাকার নিচে পড়ে শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে যশোর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির একদল সদস্য অতি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে রক্তস্নাত মরদেহটি উদ্ধার করেন এবং আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত আশপাশের শত শত গ্রামবাসী ও পথচারীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেও ওই নারীর কোনো পরিচয় মেলাতে পারেনি পুলিশ। পরবর্তীতে লাশের সঠিক পরিচয় ও জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজের সাথে তথ্য মেলাতে যশোর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে দাপ্তরিকভাবে অবহিত করা হয়। খবর পেয়ে পিবিআইয়ের একটি বিশেষ ফরেনসিক এক্সপার্ট টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অত্যাধুনিক বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিহতের আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করে। তবে আঙুলের ছাপের চামড়া ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা অন্য কোনো যান্ত্রিক জটিলতার কারণে পিবিআইয়ের তাৎক্ষণিক তল্লাশিতেও তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

রেলওয়ে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, মৃত্যুর প্রকৃত আইনি কারণ ও অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না তা নিখুঁতভাবে নির্ণয়ের জন্য মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই রেল দুর্ঘটনার বিষয়ে রেলওয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মৃত অজ্ঞাত এই নারীর পরিচয় শনাক্তে এবং তাঁর স্বজনদের খুঁজে বের করতে রেলওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ ও পিবিআইয়ের যৌথ প্রযুক্তিনির্ভর তৎপরতা ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে ফাঁড়ির ইনচার্জ গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *