স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বাড়ি ভাড়ার অগ্রিম টাকা এবং ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের দুটি এসি (এয়ার কন্ডিশনার) অভিনব কায়দায় আত্মসাতের অভিযোগে এক বাড়ির মালিক, তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যশোর শহরের বেজপাড়া মেইন রোডের বাসিন্দা শেখ সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন— যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডস্থ ফুড অফিসের সামনের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম (৬৫), তাঁর স্ত্রী রিপা বেগম (৫৫) এবং তাঁদের সন্তান সাকিব ইসলাম (৩০)।
আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জয় পাল অভিযোগটি আমলে নিয়ে বিষয়টি সুক্ষ্মভাবে তদন্ত করে দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীর পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন অ্যাডভোকেট রহিন বালুজ।
মামলার আরজি ও ভুক্তভোগীর অভিযোগ থেকে জানা গেছে, শেখ সিরাজুল ইসলাম চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ঘোপ সেন্ট্রাল রোডে আসামি সাইফুল ইসলামের ষষ্ঠতলা ভবনের ষষ্ঠতলার পশ্চিম পাশের দুই রুমের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নেন। চুক্তি অনুসারে তিনি দুই মাসের অগ্রিম (অ্যাডভান্স) বাবদ ৩৮ হাজার টাকা বাড়ির মালিককে বুঝিয়ে দেন। এরপর তিনি ওই ফ্ল্যাটে ওঠেন এবং নিজের টাকায় কেনা ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের দুটি এসি দুই রুমে স্থাপন করেন।
কিন্তু তিন মাস পার হতে না হতেই গত ২৫ মার্চ বাড়ির মালিকের স্ত্রী রিপা বেগম হঠাৎ করে কোনো কারণ ছাড়াই সিরাজুল ইসলামকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। সিরাজুল ইসলাম কারণ জানতে চাইলে রিপা বেগম অহংকারবশত বলেন, ‘আমার বাড়ি, যাকে খুশি রাখবো, যাকে খুশি রাখবো না।’ পরবর্তীতে সামাজিক মান-সম্মানের কথা বিবেচনা করে গত ২৭ মার্চ সিরাজুল ইসলাম তাঁর ঘরের ফার্নিচারপত্র নিয়ে বাড়ি ছেড়ে দেন।
ঘটনার পরের দিন অর্থাৎ ২৮ মার্চ সিরাজুল ইসলাম তাঁর ঘরের এসি দুটি খুলতে গেলে আসামিরা বাধা দেন। আসামিরা জানান, তাঁরা নিজেরাই মিস্ত্রি ডেকে এসি দুটি সাবধানে খুলে ফেরত দেবেন। কিন্তু এরপর দীর্ঘ দেড় মাস পার হয়ে গেলেও তারা নানা তালবাহানা করে এসি দুটি ফেরত দেয়নি এবং অগ্রিম দেওয়া ৩৮ হাজার টাকাও ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
পরবর্তীতে ফ্ল্যাটে নিজের এসি দেখতে না পেয়ে সিরাজুল ইসলাম বাড়ির মালিকের সাথে যোগাযোগ করলে তাঁদের ড্রয়িংরুমে একটি ঘরোয়া শালিস বৈঠক বসে। সেখানে কথাবলার একপর্যায়ে আসামিরা অকপটে স্বীকার করেন যে, তাঁরা দুটি এসিই বাইরে বিক্রি করে দিয়েছেন এবং অগ্রিম দেওয়া ৩৮ হাজার টাকার একটি টাকাও ফেরত দেওয়া হবে না। এর প্রতিবাদ করলে উল্টো ভুক্তভোগী সিরাজুল ইসলামকে খুন করার হুমকি দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করতে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে আইনের আশ্রয়ে আদালতে মামলা ঠুকে দেন এই ভুক্তভোগী ভাড়াটিয়া। ফাইল ছবি সংগৃহীত।

