কোটচাঁদপুরে ব্রিজের নিচে বস্তাভর্তি উদ্ধারকৃত মাংস নিয়ে চরম আতঙ্ক

কোটচাঁদপুরে ব্রিজের নিচে বস্তাভর্তি উদ্ধারকৃত মাংস নিয়ে চরম আতঙ্ক

​কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা:
​ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার কুশনা ইউনিয়নে এক রহস্যজনক ঘটনার সূত্রপাত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরবেলা কুশনা ইউনিয়নের গুড়পাড়া ও তালিনা গ্রামের মধ্যবর্তী মাঠের একটি ব্রিজের নিচ থেকে বস্তাভর্তি অজ্ঞাত মাংস উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত মাংসের টুকরোগুলো কার বা কিসের, তা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে।

​স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,মঙ্গলবার ভোরে কৃষকরা যখন প্রতি’ দিনের মতো মাঠে কাজ করতে যাচ্ছিলেন, তখন গুড়পাড়া ও তালিনার মাঠের সংযোগস্থলে অবস্থিত ব্রিজের নিচে একটি পরিত্যক্ত বস্তা দেখতে পান। বস্তাটি থেকে রক্তমাখা মাংসের টুকরো বেরিয়ে থাকতে দেখে কৃষকদের মধ্যে সন্দেহের দানা বাঁধে। পরে খবরটি ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতার ভিড় বাড়তে থাকে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে গুড়পাড়া পুলিশ ফাঁড়িকে অবহিত করেন।
মাঠে কাজ করতে যাওয়া গুড়পাড়া গ্রামের একজন প্রত্যক্ষদর্শী কৃষক বলেন ​”আমরা প্রতিদিনের মতোই ভোরে ফজরের নামাজের পর পটল আর ধান ক্ষেতের তদারকি করতে মাঠে যাই। ব্রিজের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ খুব বিশ্রী গন্ধ পাই। কাছে গিয়ে দেখি একটা বড় বস্তার মুখ খোলা, আর ভেতর থেকে কাটা মাংসের টুকরো দেখা যাচ্ছে। প্রথমে ভেবেছিলাম গরু বা মহিষ হবে, কিন্তু মাংসের ধরণ দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। কোনো মানুষ বা নিষিদ্ধ কিছুর মাংস কি না, সেই ভয়ে আমরা পুলিশকে জানাই।”

​খবর পেয়ে গুড়পাড়া ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মাংসভর্তি বস্তাটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মাংসগুলো পরীক্ষা করে দেখলেও এটি কোনো গবাদি পশুর নাকি অন্য কিছুর, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি।

​উদ্ধারকৃত মাংসগুলো বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। এগুলো ল্যাবরেটরি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, জনমানবহীন মাঠের মাঝে ব্রিজের নিচে এভাবে মাংস ফেলে রাখার ঘটনায় এলাকায় চুরিকৃত গবাদি পশু জবাই নাকি অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড জড়িত—তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে।
​পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই রহস্য উন্মোচন করা হবে এবং এই ঘটনার পেছনে কারা জড়িত তা খুঁজে বের করা হবে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *