কেশবপুরে ৫০০ টাকা ভাড়ার ফাঁদ পেতে ইজিবাইক চুরির চেষ্টা

কেশবপুরে ৫০০ টাকা ভাড়ার ফাঁদ পেতে ইজিবাইক চুরির চেষ্টা

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ৫০০ টাকা ভাড়ার প্রলোভন দেখিয়ে অন্য জেলা থেকে ইজিবাইক নিয়ে এসে কৌশলে চুরির চেষ্টাকালে দুই আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) দুপুরের দিকে উপজেলার আলতাপোল গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। আটককৃত ইজিবাইক চোরেরা হলেন— নড়াইল জেলার নড়াগাতি থানার কালিনগর গ্রামের বাসিন্দা কাজী তরিকুল ইসলাম (৪৪) এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার টেকানিয়া গ্রামের বাসিন্দা রাফি শেখ (২৬)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা পেশাদার ইজিবাইক চালক সোহাগ হোসেনকে কলারোয়া বাজার থেকে কেশবপুরে আসার জন্য ৫০০ টাকা ভাড়ার প্রলোভন দেখায় চক্রের মূলহোতা তরিকুল ইসলাম। সরল বিশ্বাসে চালক সোহাগ যাত্রীবেশে থাকা তরিকুলকে নিয়ে কেশবপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন।

দুপুরের দিকে ইজিবাইকটি কেশবপুরের আলতাপোল এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা সহযোগী রাফি শেখ তাদের সাথে যোগ দেয়। এরপর তারা চালক সোহাগকে বলে, “এখানে আরও দুইজন যাত্রী আসবে, তাদের নিয়ে আমরা সামনে যাব।” এই কথা বলে চালককে বিভিন্ন কৌশলে গাড়ি থেকে নামিয়ে ইজিবাইকটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চম্পট দেওয়ার চেষ্টা করে তারা।

অভিযুক্তদের গতিবিধি ও অতিরিক্ত চাতুরতা দেখে চালক সোহাগ হোসেনের সন্দেহ হয় এবং তিনি চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। তাঁর চিৎকার শুনে আলতাপোল এলাকার স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চারপাশ থেকে ছুটে এসে ধাওয়া দিয়ে তরিকুল ইসলাম ও রাফি শেখকে হাতেনাতে জাপটে ধরেন। এ সময় উপস্থিত জনতা তাদের সামান্য গণধোলাই দেয়।

খবর পেয়ে কেশবপুর থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে দুই অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় চালক সোহাগের চুরি হতে যাওয়া ইজিবাইকটি অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আসা হয়।

কেশবপুর থানা পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, আটক দুই প্রতারক ও চোরের বিরুদ্ধে ইজিবাইক চালক বাদী হয়ে দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত চুরির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এই চক্রের সাথে স্থানীয় কোনো দালাল বা চক্র জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ছবি সংগৃহীত।

আরো পড়ুন

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *