স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় হাঁস খুঁজতে গিয়ে ১১ বছর বয়সী এক লতা-কোমল শিশু চরম পাশবিকতা ও বর্বরোচিত নির্যাতনের শিকার হয়েছে। ভুক্তভোগী ওই শিশুটির গলায় ধারালো কাঁচি ধরে মুখ চেপে ধর্ষণের পর সুকৌশলে সেই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করার এক ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে মূল ধর্ষক সোফায়েল মিয়াকে (২০) হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হলেও, ভিডিওধারণকারী তার সহযোগী সায়েক মিয়া বর্তমানে পলাতক রয়েছে।
গত শুক্রবার (১০ জুলাই ২০২৬) দুপুরে শাল্লা উপজেলার হবিবপুর ইউনিয়নের মার্কুলি গ্রামে এই জঘন্য অপরাধের ঘটনাটি ঘটে।
গ্রেফতারকৃত সোফায়েল মিয়া একই গ্রামের বাসিন্দা। অন্যদিকে, ভিডিও ধারণের অভিযোগে পলাতক অপর আসামি সায়েক মিয়া একই গ্রামের নুরুল হকের ছেলে।
পুলিশ, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ জুলাই দুপুরে শিশুটি তাদের গৃহপালিত হাঁস খুঁজতে বাড়ির পেছনের নির্জন এলাকায় যায়। এ সময় ওত পেতে থাকা বখাটে সোফায়েল মিয়া পেছন থেকে আকস্মিকভাবে শিশুটির মুখ চেপে ধরে এবং তার গলায় একটি ধারালো কাঁচি ঠেকিয়ে প্রাণে মারার ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এই পাশবিক নির্যাতনের সময় সোফায়েলের পূর্বপরিকল্পিত সহযোগী সায়েক মিয়া তার নিজের মোবাইল ফোনে পুরো ধর্ষণের ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে এই জঘন্য ঘটনাটি পরিবার বা কাউকে জানালে শিশুটিকে কেটে টুকরো করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো প্রাণে মারার তীব্র হুমকি দিয়ে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর অবুঝ শিশুটি ভয়ে ও আতঙ্কে লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি প্রথমে গোপন রাখে। তবে পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি এবং অস্বাভাবিক চলাফেরা দেখে অভিভাবকদের মনে তীব্র সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে মায়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং তার ওপর ঘটে যাওয়া নারকীয় নির্যাতনের পুরো ঘটনাটি খুলে বলে।
এই ঘটনা জানার পর, পরদিন ১১ জুলাই শনিবার রাতে শিশুর বাবা বাদী হয়ে ধর্ষক সোফায়েল মিয়া ও ভিডিওধারণকারী সায়েক মিয়ার নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে শাল্লা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই শাল্লা থানা পুলিশ গভীর রাতে মার্কুলি গ্রামে এক সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত সোফায়েল মিয়াকে গ্রেফতার করে। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপর আসামি সায়েক মিয়া কৌশলে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।
শাল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রোকিবুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে থানায় সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রধান আসামি সোফায়েল মিয়াকে মার্কুলি গ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত সোফায়েল তার অপরাধের কথা পুরোপুরি স্বীকার করেছে। তাকে ইতিমধ্যেই সুনামগঞ্জ বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।”
ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার্থে ও প্রয়োজনীয় ডাক্তারি (মেডিকেল) পরীক্ষার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত এবং ভিডিও ধারণকারী দ্বিতীয় আসামি সায়েক মিয়াকে গ্রেফতার এবং অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি উদ্ধারের জন্য পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুব দ্রুত তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।প্রতীকী-ছবি সংগৃহীত।


