স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অভ্যন্তরীণ আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুটি কুখ্যাত সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্য ও রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। এই নারকীয় তাণ্ডবের মধ্যে পড়ে টিফিন কিনতে বের হওয়া ষষ্ঠ শ্রেণির এক নিরীহ স্কুল শিক্ষার্থী পিঠে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থীর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে জরুরি ভিত্তিতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানী ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুই মাদক গ্রুপের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের মাঝে পড়ে পিঠে গুলিবিদ্ধ হওয়া ভাগ্যহত ওই শিক্ষার্থীর নাম ইথান আহমেদ। সে কাটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির নিয়মিত ছাত্র। আজ দুপুরে স্কুলের টিফিন বিরতি ঘোষণা করা হলে ইথান অন্য সহপাঠীদের মতো খাবার কেনার উদ্দেশ্যে স্কুলের বাইরে বের হয়। ঠিক তখনই দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণের মাঝে পড়ে তার পিঠে একটি তাজা গুলি বিদ্ধ হয়।
ইথানের মা সোনিয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বুকফাটা আর্তনাদ করে বলেন, “আমার ছেলে স্কুলের বিরতির সময় শুধু টিফিন খেতে বের হয়েছিল। তখন তার পিঠে গুলি লাগে। ও তো কোনো অপরাধ করেনি, সে শুধু স্কুলে পড়তে গিয়েছিল। আমার বুক যারা খালি করল, আমি তাদের কঠোর বিচার চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা ও পাড়া-মহল্লার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে ‘অপু গ্রুপ’ ও ‘সাব্বির গ্রুপ’-এর মধ্যে তীব্র কোন্দল চলে আসছে। গত বুধবার রাত থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা শুরু হয় এবং দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এলাকায় অবাধ মাদক ব্যবসা বন্ধের দাবিতে আজ বৃহস্পতিবার সকালেই রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল স্কুলের সামনে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকেরা এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই মানববন্ধনের ঠিক পরপরই দুপুর বেলা একদল চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অতর্কিতে মানববন্ধনের আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের লক্ষ্য করে সশস্ত্র হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবর্ষণ শুরু হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি শুরু করেন। ঠিক এই হট্টগোলের মাঝেই আটকা পড়ে গুলিবিদ্ধ হয় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ইথান।
ঘটনার পর পরই পুরো কাটাবিল এলাকা থমথমে পরিস্থিতি ধারণ করলে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ এবং র্যাবের একাধিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “মাদক ও এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মূলত অপু গ্রুপ ও সাব্বির গ্রুপের মধ্যে এই সশস্ত্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী স্কুল থেকে বের হয়ে বাড়ি যাওয়ার পথে বা টিফিন খাওয়ার সময় আহত হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। ঘটনা ও হামলার সাথে জড়িতদের দ্রুত আইডেন্টিফাই করে আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ ও র্যাবের যৌথ চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” এই ঘটনার পর থেকে কুমিল্লা নগর জুড়ে সাধারণ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। ছবি সংগৃহীত।


