সুরের জাদুকর রোমেল: যশোরের এক নিভৃত সংগীত সাধকের গল্প

সুরের জাদুকর রোমেল: যশোরের এক নিভৃত সংগীত সাধকের গল্প

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

যশোরের মাটিতে জন্ম নেওয়া এক নিভৃতচারী কণ্ঠশিল্পী গীতিকার ও সুরকার রোমেল। নামটি হয়তো এখনো বড় মঞ্চের আলোয় তেমন ঝলমল করে না, কিন্তু তার কণ্ঠের ভেতরে লুকিয়ে আছে এক গভীর প্রেমের গল্প। এই প্রেম কোনো মানুষকে ঘিরে নয়, বরং সুরকে কেন্দ্র করে—এক অন্তহীন, অনন্ত ভালোবাসা।
রোমেলের সঙ্গে আলাপচারিতায় যেন বারবার ফিরে আসে সেই একই অনুভব গান তার কাছে শুধু পেশা নয়, এটি তার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষ। প্রায় ৩০ বছরের দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে তিনি সুরের সঙ্গে এমনভাবে মিশে গেছেন, যেন প্রতিটি নোট, প্রতিটি লাইন তার হৃদয়ের স্পন্দন।
“আমি ছোটবেলা থেকেই গানকে ভালোবেসেছি” এই সরল স্বীকারোক্তির মধ্যেই লুকিয়ে আছে তার জীবনের গভীরতা। স্টেজ শো, লাইভ প্রোগ্রাম কিংবা নিভৃত কোনো সন্ধ্যা সবখানেই তিনি যেন নিজের ভালোবাসাকে ছড়িয়ে দেন সুরের মাধ্যমে। তার কণ্ঠে গান মানেই যেন এক অদৃশ্য স্পর্শ, যা হৃদয়ের ভেতর নিঃশব্দে আলোড়ন তোলে।
রোমেলের নিজেরও রয়েছে বেশ কিছু মৌলিক গান যেখানে প্রেম, অভিমান, অপেক্ষা আর মায়ার গল্প একাকার হয়ে যায়। তার তৈরি গানগুলোতে পাওয়া যায় এক অন্যরকম আবেগ, যেন প্রতিটি শব্দ কারও জন্য লেখা এক গোপন চিঠি। তার অনেক গানই প্রচারিত হয়েছে বিভিন্ন চ্যানেলে, যেখানে শ্রোতারা খুঁজে পেয়েছেন তার হৃদয়ের ভাষা।
তিনি বলেন, “আমার গানের প্রতিক্রিয়া ভালোই পাই… মানুষ যখন আমার গান শুনে অনুভব করে, তখন মনে হয় আমার ভালোবাসাটা তাদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি।” এই কথাগুলো বলার সময় তার চোখে যেন এক মৃদু আলো জ্বলে ওঠে—যা শুধুই একজন সত্যিকারের শিল্পীর চোখে দেখা যায়।
রোমেলের কাছে গান মানে শুধু সুর নয় এটি এক সম্পর্ক, এক নিবিড় অনুভব। কখনো তা হয় প্রিয়জনের জন্য লেখা এক নীরব কবিতা, কখনো বা নিজের ভেতরের একাকীত্বকে জড়িয়ে ধরা এক সঙ্গী।
তার জীবন যেন এক চলমান প্রেমের গল্প যেখানে ভালোবাসার নাম ‘সংগীত’। এই ভালোবাসা কখনো ফুরায় না, বরং সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়, আরও মায়াময় হয়ে ওঠে।
শেষে বিদায়ের সময় রোমেল শুধু একটি কথাই বলেন“গানই আমার সবকিছু।”
এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে তার সমস্ত অনুভব, সমস্ত ভালোবাসা।
রোমেল একজন শিল্পী নন শুধু, তিনি একজন প্রেমিক…
যার ভালোবাসার নাম…সুর। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *