স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের শার্শা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বিশিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে ডিবি পুলিশ ও থানা পুলিশের সদস্যরা যৌথভাবে আটকের চেষ্টা চালিয়েছেন বলে এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তবে কোনো স্পষ্ট কারণ বা ওয়ারেন্ট ছাড়াই রাজনৈতিক একজন শীর্ষ নেতাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার এই আকস্মিক চেষ্টার বিরুদ্ধে স্থানীয় সাধারণ জনতা ও বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তাৎক্ষণিকভাবে রাজপথে নেমে এসে তীব্র প্রতিরোধ ও বাধার সৃষ্টি করেন। জনতার এই নজিরবিহীন ও একতাবদ্ধ বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত পুলিশ তাকে নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয় এবং একপর্যায়ে মিন্টুকে ছেড়ে দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয় বলে স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) উপজেলার একটি জনাকীর্ণ এলাকায় এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে, যা প্রকাশ পাওয়ার পর পুরো শার্শার রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা ও তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় একাধিক দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ কিংবা স্পষ্ট অভিযোগ ছাড়াই হঠাৎ করে যশোর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ এবং শার্শা থানা পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আকস্মিকভাবে অ্যাডভোকেট মোস্তফা কামাল মিন্টুকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন এবং জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। এই খবরটি মুহূর্তের মধ্যে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এবং বিএনপির বিভিন্ন স্তরের শত শত নেতাকর্মী দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে জড়ো হন। তারা কোনো প্রকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ বা কারণ ছাড়া একজন সজ্জন রাজনৈতিক নেতা ও আইন পেশার সাথে জড়িত ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টার বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং পুলিশের গাড়ি ঘেরাও করে তীব্র প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। উপস্থিত জনতার দাবি, পুলিশ কোনো মামলা বা ওয়ারেন্টের কথা স্পষ্ট না করেই অন্যায়ভাবে এই প্রবীণ নেতাকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে এবং সাধারণ মানুষের গণপ্রতিরোধের মুখে পুলিশ বাধ্য হয়ে তাকে নেতাকর্মীদের মাঝে ফিরিয়ে দিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
বিএনপির এই শীর্ষ নেতাকে আটকের অপচেষ্টার খবরকে কেন্দ্র করে শার্শা উপজেলার সংশ্লিষ্ট এলাকায় বেশ কিছু সময় ধরে চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করলেও পরবর্তীতে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের শক্ত অবস্থানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বর্তমানে ওই এলাকার পরিবেশ শান্ত রয়েছে। তবে খোদ পুলিশের দুই বিভাগের যৌথ অভিযানের এই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে যশোর ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুজন কুমার মন্ডল সংবাদ মাধ্যমকে জানান, এটি ডিবি পুলিশের কোনো আভিযানিক বিষয় নয় বা এই অভিযানের সাথে ডিবি’র কোনো সম্পৃক্ততা নেই, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে শার্শা থানা পুলিশের নিজস্ব বিষয়। অন্যদিকে শার্শা থানা পুলিশের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আগাম তথ্য যাচাইয়ের অংশ হিসেবে পুলিশ সেখানে গিয়েছিল, তবে আটকের চেষ্টার বিষয়টি সঠিক নয়। প্রশাসনের এমন দাবির পরেও স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং রাজপথে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক হয়রানি রুখে দেওয়ার জন্য রাজপথে সতর্ক পাহারার ঘোষণা দিয়েছেন। ফাইল ছবি সংগৃহীত।


