স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
বজ্রপাতে নিহত সন্তানের লাশ চুরির ভয়ে রাত জেগে কবর পাহারা দিচ্ছেন এক বৃদ্ধ বাবা। মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া সামাজিক কবরস্থানে গত কয়েকদিন ধরে চলছে এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য। কুসংস্কারজনিত আতঙ্ক থেকে নিজের সন্তানের মরদেহ রক্ষায় ঋণ করে লোক রেখেও পাহারার ব্যবস্থা করেছেন তিনি।
যেভাবে শুরু এই আতঙ্ক: গত বৃহস্পতিবার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার হাইয়ার পার এলাকায় গরুর জন্য ঘাস আনতে গিয়ে বজ্রপাতে মৃত্যু হয় যুবক আরাফাত খানের। তিনি পেশায় একজন দর্জি ছিলেন। দাফনের পর থেকেই এলাকায় গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে যে, বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মরদেহের ‘বিশেষ মূল্য’ আছে এবং তা চুরি হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই বাবা জসিম খান সন্তানের কবরের পাশে বিনিদ্র রাত কাটাচ্ছেন।
অসহায় বাবার আকুতি: সরেজমিনে দেখা যায়, অন্ধকার কবরস্থানে লাঠি হাতে বসে আছেন অসুস্থ জসিম খান। তিনি বলেন, “ছেলেটা আমার সংসার চালাত। অনেকের মুখে শুনেছি বজ্রপাতে মারা গেলে লাশ চুরি হয়। সেই ভয় থেকেই আমি এখানে বসে থাকি। শরীর চলে না, তাই ঋণ করে মানুষ রেখেছি পাহারা দিতে। নিজের সংসারই চলে না, তার ওপর এই খরচ। প্রশাসন যদি একটু নিরাপত্তা দিত, তবে শান্তি পেতাম।”
কুসংস্কার ও জননিরাপত্তা: স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইতিপূর্বে এলাকা থেকে মরদেহ চুরির কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটায় মানুষের মনে এই ভীতি জেঁকে বসেছে। বিশেষ করে বজ্রপাতে নিহতদের কঙ্কাল নিয়ে নানা ভ্রান্ত ধারণা থাকায় দুষ্কৃতিকারীদের কুনজর থাকে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বিপু মাতব্বর জানান, পরিবারটি চরম মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। কবরস্থানের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
শোকাতুর এক বাবার এই অসহায়ত্ব এখন টঙ্গীবাড়ীর মানুষের মুখে মুখে। কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা এবং কবরস্থানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি। ছবি সংগৃহীত।

