লাইসেন্স আর প্রশিক্ষণ ছাড়া রাস্তায় নামলেই জব্দ হবে ভ্যান-রিকশা

লাইসেন্স আর প্রশিক্ষণ ছাড়া রাস্তায় নামলেই জব্দ হবে ভ্যান-রিকশা

স্ফুলিঙ্গ  রিপোর্ট :

লাইসেন্সবিহীন ও যত্রতত্র চলাচলকারী থ্রি-হুইলারের কারণে দীর্ঘদিনের যানজটে নাকাল যশোর শহরকে পুরোপুরি বদলে ফেলার ছক কষেছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে কেবল যশোর পৌরসভার বৈধ অনুমোদন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সধারী চালকেরাই ভ্যান কিংবা রিকশা নিয়ে সড়কে নামতে পারবেন। এই কড়া নিয়ম ভাঙলে আগামী ১ জুলাই থেকে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটি। বর্তমানে পৌর এলাকায় নিবন্ধিত বৈধ গাড়ির সংখ্যা ৭ হাজার ৭০০টি।

আজ রোববার (১৪ জুন ২০২৬) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের মাসিক নীতি-নির্ধারণী সভায় এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

যশোরকে একটি নান্দনিক ও পরিকল্পিত শহর হিসেবে গড়ে তোলার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে শহরের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি থাকা অবৈধ ভ্যান ও রিকশাকে। এই নৈরাজ্য থামাতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান এক যুগান্তকারী কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন।

নির্দেশনা অনুযায়ী, বিআরটিএ, ট্রাফিক পুলিশ এবং পৌরসভার প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ স্ক্রিনিং কমিটি গঠন করা হচ্ছে। এই কমিটি প্রথমে রিকশা ও ভ্যান চালকদের যোগ্যতা যাচাই করবে। এরপর নির্বাচিত চালকদের ৭ থেকে ১০ দিনের একটি বিশেষ ট্রাফিক নিয়মের ওপর প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করলেই কেবল মিলবে চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স।  এই নিয়ম বাস্তবায়নে পৌর প্রশাসক সৈয়দ রফিকুল হাসানকে দ্রুততম সময়ে পুরো শহরজুড়ে মাইকিং ও প্রচারণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যানজট নিয়ন্ত্রণে কেবল রিকশা উচ্ছেদই নয়, বরং পুরো ট্রাফিক নেটওয়ার্ক ঢেলে সাজানোর কথা জানিয়েছেন পুলিশ সুপারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম সভায় স্পষ্ট করেন, এখন থেকে শহরের প্রধান এন্ট্রি পয়েন্ট বা প্রবেশদ্বারগুলোতে কড়া চেকপোস্ট বসানো হবে। কোন রুটে কোন সময়ে ভ্যান-রিকশা ঢুকবে, তা শিফট অনুযায়ী বন্টন করা হবে। এই শৃঙ্খলা বজায় রাখতে অনতিবিলম্বে শহরের ফুটপাত ও রাস্তার দুই পাশের সব ধরনের অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদ করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কমলেশ মজুমদার মে মাসের অপরাধের খতিয়ান তুলে ধরে জানান, মে মাসে ডাকাতি ও মাদক অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে এলেও কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত ও সীমান্ত চোরাচালান এখনো পুরোপুরি থামেনি। ফলশ্রুতিতে সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১ জুলাই থেকে রিকশা উচ্ছেদের সমান্তরালে শহরের স্পটগুলোতে কিশোর গ্যাং ও মাদকবিরোধী ব্লক রেইড চলবে। একই সাথে সীমান্তে পুশইন ও চোরাচালান রুখতে ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মাহমুদ ও র‍্যাবের এসপি রেজাউল হকের সমন্বয়ে বিশেষ সীমান্ত ড্রাইভ অব্যাহত থাকবে।

সবশেষে জেলা প্রশাসক হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। শহরের পরিবেশ রক্ষা ও ট্রাফিক জ্যামমুক্ত নান্দনিক যশোর গড়তে প্রশাসন এবার চূড়ান্তভাবে কঠোর হবে।” ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *