স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের বাজারে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস বাড়িয়ে আবারও আকাশচুম্বী হয়েছে এলপি গ্যাসের দাম। কোনো ঘোষণা ছাড়াই রাতারাতি সিলিন্ডার প্রতি দাম বাড়ানো হয়েছে কয়েকশ টাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের কারসাজিতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে এই দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে, যা সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে নিয়ে গেছে।
যশোরে এলপি গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াদুদ এন্টারপ্রাইজ’-এর আজকের (১ এপ্রিল) মূল্য তালিকা অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে: বসুন্ধরা এলপিজি: ২,১০০ টাকা,বেক্সিমকো, ওমেরা, যমুনা, টোটাল ও অন্যান্য ব্র্যান্ড: ২,০০০ টাকা।
অথচ সরকারিভাবে নির্ধারিত দামের চেয়ে এই বাজার দর অনেক বেশি। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিলার পর্যায় থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে বলেই তারা বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের দাবি, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও পাইকারি ব্যবসায়ীরা গুদামে গ্যাস মজুত রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট দেখাচ্ছেন। এই সিন্ডিকেট চক্রটি যশোর শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ইচ্ছেমতো মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট কাটছে। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো, যারা রান্নার জন্য সম্পূর্ণ গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল, তারা চরম বিপাকে পড়েছেন।
শহরের এক সাধারণ গ্রাহক জানান, “প্রতি মাসেই কোনো না কোনো অজুহাতে দাম বাড়ানো হয়। প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় এই সিন্ডিকেটগুলো আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই দাম বৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে।
যশোরের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছেন, অনতিবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে কঠোর বাজার মনিটরিং এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা প্রয়োজন। দোষী মজুতদার ও সিন্ডিকেট সদস্যদের আইনের আওতায় না আনলে সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তি কমার কোনো সম্ভাবনা নেই।
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি


