যশোর জেনারেল হাসপাতালে এ কেমন চিকিৎসাসেবা?

যশোর জেনারেল হাসপাতালে এ কেমন চিকিৎসাসেবা?

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট : যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন চারজন রোগীর সমস্ত নথিপত্র (ভর্তি ফাইল) রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স ও চিকিৎসকদের চরম অবহেলার কারণেই রোগীদের জীবন রক্ষাকারী এই গুরুত্বপূর্ণ ‘কেস স্টাডি’ ও প্রেসক্রিপশন সম্বলিত ফাইলগুলো খোয়া গেছে বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী স্বজনরা। ফাইল না থাকায় গত চারদিন ধরে রোগীদের চিকিৎসাসেবা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী স্বজনদের দাবি, ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের উদাসীনতার সুযোগে রোগীদের শয্যার পাশ থেকে বা নার্সিং স্টেশন থেকে ফাইলগুলো চুরি বা হারিয়ে গেছে। নিখোঁজ হওয়া এসব ফাইলে রোগীর ভর্তির টিকিট, এ পর্যন্ত দেওয়া ওষুধের তালিকা এবং চিকিৎসকদের বিশেষ পরামর্শ (প্রেসক্রিপশন) সংরক্ষিত ছিল। এখন ফাইল না থাকায় চিকিৎসকরা নতুন করে কোনো ব্যবস্থাপত্র লিখতে পারছেন না, ফলে চিকিৎসা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন রোগীরা।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন জহিরুল ইসলাম (মোবাইল: 01601934382) জানান, তার মেয়ে গত ৬ তারিখে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। আজ হঠাৎ দেখা যায় তাদের ফাইলটি নেই। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ফাইল হারিয়ে গেছে, আর এখন তারা দায় এড়াতে আমাদের নতুন করে টিকিট কেটে পুনরায় ভর্তি করানোর জন্য চাপ দিচ্ছে। চারদিনের পুরনো রিপোর্টগুলো ছাড়া ডাক্তাররা এখন কীভাবে চিকিৎসা দেবেন?”

সাধারণত রোগীদের ফাইল সংরক্ষণের দায়িত্ব নার্স ও সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের স্টাফদের। কিন্তু যশোর জেনারেল হাসপাতালের এই দুটি স্পর্শকাতর ওয়ার্ডে নজরদারির অভাব এবং অব্যবস্থাপনার কারণে এমন ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফাইল হারানোর পর নার্সরা সহযোগিতা করার বদলে রোগীদের স্বজনদের সাথে অপেশাদার আচরণ করছেন বলেও জানা গেছে।

শিশু ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যেখানে প্রতি মুহূর্তে ওষুধের হিসাব রাখা জরুরি, সেখানে ফাইল হারিয়ে যাওয়াকে ‘কর্তৃপক্ষের চরম ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখছেন সচেতন মহল। ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ডিজিটাল পদ্ধতিতে ডেটা সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

ফাইল ছবি

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *