স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি হলের ডাইনিংয়ে পরিবেশন করা নিম্নমানের খাবার খেয়ে অন্তত ৭০ জন ছাত্রী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বুধবার রাতের খাবারে ‘বিষক্রিয়া’ (ফুড পয়জনিং) হওয়ার ফলে বৃহস্পতিবার দিনভর ক্যাম্পাস ও শহরের হাসপাতালগুলোতে হাহাকার পড়ে যায়। এই ঘটনায় হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান ও তদারকি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে।
হল সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে ডাইনিংয়ে যে ডাল ও মাংস পরিবেশন করা হয়েছিল, তা থেকেই মূলত বিষক্রিয়ার সূত্রপাত। ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর থেকেই ছাত্রীদের পেটে ব্যথা, বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে হলের ভেতর এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একের পর এক ছাত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো হলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টারে পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় চিকিৎসক ও সহকারীরা অসুস্থ ছাত্রীদের সামাল দিতে রীতিমতো হিমশিম খান। গুরুতর অসুস্থ ২০ জন ছাত্রীকে তড়িঘড়ি করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল ও আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘক্ষণ মানহীন খাবার ও পচা ডাল খাওয়ার কারণে ছাত্রীদের শরীরে মারাত্মক পানিশূন্যতা তৈরি হয়েছে।
গভীর রাতে হাসপাতালে শিক্ষার্থীদের দেখতে গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ইয়ারুল কবীর ঘটনা খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও শিক্ষার্থীরা বলছেন অন্য কথা। তাদের অভিযোগ, হলের ডাইনিংয়ে নিয়মিতই নিম্নমানের চাল ও বাসি খাবার দেওয়া হয়। তদারকির অভাবে প্রায়ই ছাত্রীদের স্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিয়ে ডাইনিং চালানো হচ্ছে।
প্রভোস্ট ড. মোছা: আফরোজা খাতুন ঘটনাটিকে দুর্ভাগ্যজনক বললেও, কেন খাবারের মান যাচাই করা হয়নি সেই প্রশ্নের কোনো সদুত্তর মেলেনি। ছবি সংগৃহীত।


