স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে উঁকি দেওয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে নিয়াশা চন্দ্র দাস (৫৭) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) দিবাগত রাত ৩টার দিকে উপজেলার কলমা গ্রামে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কলমা গ্রামের দাসপাড়া এলাকার বাসিন্দা নিয়াশা চন্দ্র দাস পেশায় একজন জেলে ছিলেন। সোমবার রাতে মহাদেব হঠাৎ নিয়াশার বিরুদ্ধে তার প্রবাসী ভাই অসিম দাসের স্ত্রীর ঘরে উঁকি দেওয়ার অভিযোগ তোলেন। এই অপবাদ দিয়ে তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে মারধর শুরু করেন মহাদেব ও তার সহযোগী মাহবুব।
একপর্যায়ে রাত ৩টার দিকে তাকে দাসপাড়া হরি সভা মন্দিরের সামনে নিয়ে আসা হয়। সেখানে মাহবুব তাকে সজোরে থাপ্পড় মারলে তিনি পাকা রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। এতে তার নাক-মুখ দিয়ে প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আশ্চর্যের বিষয় হলো, যার ঘরে উঁকি দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, সেই প্রবাসী অসিম দাসের স্ত্রী পূজা দাস এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার দেবর মহাদেব দীর্ঘদিন ধরে তাকে বিরক্ত করে আসছিল। তাকে সামাজিকভাবে হেয় করতে এবং বৃদ্ধ নিয়াশার ওপর ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতেই এই মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত বৃদ্ধ তাদের বাড়ির আশেপাশেও যাননি বলে তিনি জানান।নিহতের বড় মেয়ে উর্মিলা মন্ডল কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “আমার বাবাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের ফাঁসি চাই।”
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মহাদেব নামে একজনকে আটক করেছে। তবে অন্য অভিযুক্ত মাহবুব বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে এবং এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রতীকী-ছবি


