জাকির হোসাইন তুষার,মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রায় চার লাখ টাকার অবৈধ চায়না দোহারি জাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। পরে জব্দকৃত জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদমান আকিফ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার।
অভিযান শেষে কর্মকর্তারা জানান, চায়না দোহারি জাল দেশের মৎস্যসম্পদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এই জালের ফাঁস অত্যন্ত সূক্ষ্ম হওয়ায় এটি শুধু বড় মাছ নয়, বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণুপোনা, ডিম এবং জলজ জীবও নির্বিচারে আটকে ফেলে। ফলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হয় এবং নদী-খাল-বিলের জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌসী আক্তার বলেন, “চায়না দোহারি জাল ব্যবহারের ফলে মাছের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এভাবে অবৈধ জালের ব্যবহার চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছের অনেক প্রজাতিই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে পড়বে।”
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাদমান আকিফ বলেন, “চায়না দোহারি জাল নদী, খাল ও জলাশয়ের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ এবং রেণুপোনা ধ্বংস করে দিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম দেশীয় মাছ সম্পর্কে জানার সুযোগও হারাবে। একই সঙ্গে মানুষের প্রাণিজ আমিষ ও পুষ্টির অন্যতম উৎস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এ ধরনের অবৈধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, নদী ও জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে চায়না দোহারি জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির পাশাপাশি জেলেদের সচেতন করাও জরুরি। অন্যথায় মৎস্যসম্পদের অপূরণীয় ক্ষতির পাশাপাশি দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়তে পারে। ছবি সংগৃহীত।


