স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় মানবতার মাথা হেট করা এক চরম বর্বরোচিত ও গা শিউরে ওঠা অপরাধের চিত্র সামনে এসেছে। এক ৫৯ বছর বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধা নারীকে রাতের অন্ধকারে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের লোমহর্ষক অভিযোগ উঠেছে পাঁচ নরপশুর বিরুদ্ধে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয় সাধারণ মানুষ। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী বৃদ্ধার ভাই বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে পীরগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্বরতার শিকার ওই অসহায় ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারী পীরগঞ্জ উপজেলার বড় দরগাহ ইউনিয়নের ডাসারপাড়া গ্রামের এক হতদরিদ্র পরিবারের বাসিন্দা।
এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এই মামলার এজাহারনামীয় অভিযুক্তরা হলেন— পার্বতীপুর গ্রামের বাসিন্দা বিদ্যুৎ সরকার, রতন মিয়া, হবিবর রহমান ও মিথুল এবং পীরগঞ্জ ইউনিয়নের বারাইপাড়া গ্রামের হাফিজার রহমান।
থানায় দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, গত ১ জুলাই রাতে পীরগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় মুষলধারে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। ওই দিন রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী তাঁর নিজ বাড়ি থেকে অসাবধানতাবশত বের হয়ে যান। তীব্র বৃষ্টির কারণে কোনো উপায় না পেয়ে তিনি পীরগঞ্জ ইউনিয়নের বারাইপাড়া সার্বজনীন দুর্গামন্দিরের বারান্দায় আশ্রয় নেন। কিন্তু দেবালয়ের সেই পবিত্র আঙিনাতেও নিরাপদ ছিলেন না এই অসহায় নারী।
অভিযোগে বলা হয়েছে, পরদিন ২ জুলাই রাত আনুমানিক ২টার দিকে ওত পেতে থাকা ওই পাঁচ নরপশু মন্দিরের বারান্দা থেকে ওই বৃদ্ধাকে মুখ চেপে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে তাঁকে বড় দরগাহ ইউনিয়নের পার্বতীপুর গ্রামের একটি বন্ধ মুদি দোকানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দোকানের শাটার আটকে দিয়ে অসহায় ও বাকপ্রতিবন্ধীপ্রায় এই নারীর ওপর একের পর এক চালায় পাশবিক ও অমানুষিক নির্যাতন।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগীর তীব্র গোঙানি ও আর্তচিৎকার শুনতে পেয়ে গভীর রাতে আশপাশের স্থানীয় লোকজন ছুটে আসেন। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। স্থানীয় কয়েকজন প্রতিবেশীর সহযোগিতায় বিপর্যস্ত অবস্থায় ওই বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে পরবর্তীতে তাঁর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
পারিবারিক লোকলজ্জা ও পারিপার্শ্বিক নানা বাধার ধকল কাটিয়ে অবশেষে ভুক্তভোগী নারীর ভাই গতকাল সোমবার পীরগঞ্জ থানায় গিয়ে এই নির্মম ঘটনার সুবিচারের আশায় একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দায়ের করেন।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে জানান, থানায় লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির বিষয়টি আমি জেনেছি। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ধরনের সামাজিক অপরাধের সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।”ছবি সংগৃহীত।

