বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এখন শ্রীঘরে

বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এখন শ্রীঘরে

স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :

যশোরের বাঘারপাড়ায় একটি চোরাই ড্রাম ট্রাক কেটে টুকরো টুকরো করে তা পার্টস হিসেবে বিক্রির চাঞ্চল্যকর মামলায় বন্দবিলা ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার খাজুরা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যশোর আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন। গ্রেপ্তার হওয়া আলমগীর হোসেন বাঘারপাড়া উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের তেলিধান্যপুর গ্রামের মৃত ওলিয়ার রহমানের ছেলে।

জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সালাউদ্দিন খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, গত ৭ জুন তেলিধান্যপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের মালিকানাধীন একটি নির্জন ফার্মহাউসে খাজুরা পুলিশ ক্যাম্প ও ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ দল যৌথ অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চোর চক্রের কয়েকজন সুকৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও ঘটনাস্থল থেকে জামাল, সেতু ও এনামুল নামে তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। অভিযানের সময় দেখা যায়, আসামিরা ওই ফার্মহাউসের উঁচু প্রাচীরের ভেতরে অত্যন্ত গোপনে একটি চোরাই ড্রাম ট্রাক কেটে বিভিন্ন টুকরোয় রূপান্তর করছিল।

ডিবি পুলিশ জানায়, পরবর্তী নিখুঁত তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, চোরাই ট্রাকটি দ্রুত কেটে বাজারে লোহা ও পার্টস হিসেবে বিক্রির উদ্দেশ্যেই সেখানে আনা হয়েছিল। এই চক্রের মূল নেটওয়ার্ক উদঘাটন করে পরবর্তীতে ছয়জনের নাম উল্লেখ করে বাঘারপাড়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। মামলার সূত্র ধরে এর আগে যশোর শহরের বকচর হুশতলা মাঠপাড়া এলাকার হাসান শিকদারের ছেলে হামজাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গ্রেপ্তারকৃত একাধিক আসামির বিজ্ঞ আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই চোরাই সিন্ডিকেটের অন্যতম অর্থদাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সাবেক যুবদল নেতা আলমগীর হোসেনের নাম প্রত্যক্ষভাবে উঠে আসে।

আসামিদের দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই ও প্রযুক্তির সহায়তায় ডিবি পুলিশ মঙ্গলবার রাতে খাজুরা বাজারে অভিযান চালিয়ে আলমগীরকে বাগে আনতে সক্ষম হয়। বাঘারপাড়া থানা ও ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, সমগ্ৰ জেলাজুড়ে সক্রিয় থাকা এই চোরাই গাড়ি ও পার্টস বিক্রির সিন্ডিকেটের সাথে আর কারা জড়িত এবং এই চুরির নেটওয়ার্ক কতদূর বিস্তৃত, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এই চক্রের বাকি পলাতক আসামিদেরও অনতিবিলম্বে আইনের আওতায় আনা হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *