স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
পাবনার আটঘরিয়ায় নিজ সন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে হত্যার পর আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন এক প্রবাসীর স্ত্রী। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার চাঁদভা ইউনিয়নের ভরতপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে এই শিউরে ওঠা ঘটনা ঘটে। নিহত শিশু তাওহিদ (৪) ওই গ্রামের সিঙ্গাপুর প্রবাসী টুটুল ইসলামের একমাত্র সন্তান।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাত পৌনে ১২টার দিকে গৃহবধূ মুক্তা খাতুন (২৫) ঘরের ভেতর তার চার বছরের সন্তানকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। সন্তান মারা যাওয়ার পর তিনি নিজেও ঘরের ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালান। পরিবারের সদস্যরা টের পেয়ে দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে মুক্তা খাতুন ‘হৃদয়’ নামে এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত ছিলেন। ধারণা করা হচ্ছে, পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে কোনো টানাপোড়েন বা পারিবারিক কলহের জেরে তিনি এই চরম পথ বেছে নিয়েছেন। অবুঝ শিশুকে কেন এভাবে জীবন দিতে হলো, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
আটঘরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরকীয়া সংক্রান্ত জটিলতা বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে এই নৃসংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন হবে।”
ফাইল ছবি


