স্ফুলিঙ্গ ডেক্স: ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনউতে মাত্র ১৬০ টাকার তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে এক মুসলিম বিধবা নারী ও তার দৃষ্টিহীন ছেলেকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় শিউরে উঠেছে গোটা এলাকা। মোহনলালগঞ্জ থানা পুলিশ এই জোড়া খুনের মূল অভিযুক্ত কিষাণ রাওয়াতকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারের সময় পুলিশের সাথে এক বন্দুকযুদ্ধে অভিযুক্তের পায়ে গুলি লেগেছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়,নিহত রেশমা বানো (৪৮) পেশায় একজন ক্ষুদ্র পান-সুপারি বিক্রেতা ছিলেন। তার প্রতিবেশী রাজমিস্ত্রি কিষাণ রাওয়াত রেশমার কাছ থেকে ১৬০ টাকা ধার নিয়েছিল। গত সোমবার সেই পাওনা টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে কিষাণ তাদের বাড়িতে যায়। বাড়িতে তখন রেশমার ১৮ বছর বয়সী দৃষ্টিহীন ছেলে শাদাব একা ছিল। টাকা নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কিষাণ শাদাবকে লাথি মেরে একটি পানির ট্যাঙ্কে ফেলে দেয় এবং শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে লাশের ওপর আরেকটি ভারি ট্যাঙ্ক চাপিয়ে দেয় সে।
রেশমা বানো বাড়িতে ফিরে ছেলেকে বাঁচাতে চাইলে পাষণ্ড কিষাণ তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। পুলিশি তদন্ত ও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, হত্যার আগে রেশমাকে নির্মমভাবে যৌন নির্যাতন বা ধর্ষণ করা হয়। এরপর তাকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘাতক কিষাণ। অভিযোগ উঠেছে, এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ব্যক্তি লাশের পাশেই বসে দীর্ঘক্ষণ মদ্যপান করে এবং নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
এদিকে সোমবার রাতে স্বজনরা রেশমাকে ফোনে না পেয়ে বাড়িতে গিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। একপর্যায়ে শাদাবের মরদেহ পানির ট্যাঙ্ক থেকে এবং রেশমার অর্ধনগ্ন দেহ লেপ দিয়ে মোড়ানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘাতককে ধরতে লখনউ পুলিশ পাঁচটি বিশেষ টিম গঠন করে। গত বুধবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ হুলসখেদা এলাকায় অভিযান চালালে কিষাণ পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে এক কনস্টেবল আহত হন। পাল্টা গুলিতে কিষাণ আহত হলে তাকে আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত কিষাণ অত্যন্ত উগ্র মেজাজের ছিল। তুচ্ছ অর্থের লোভ এবং বিকৃত অপরাধমূলক মানসিকতাই এই জোড়া খুনের মূল কারণ। পুলিশ এই মামলায় পূর্বের খুনের ধারার সাথে নতুন করে ধর্ষণের ধারাও যুক্ত করেছে।
ছবি সংগৃহীত।


