স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
ডিজেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ার প্রভাবে ঢাকার আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালগুলোতে চরম অস্থিরতা শুরু হয়েছে। জ্বালানি সংকট, বাসের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। একদিকে পাম্পে তেল মিলছে না, অন্যদিকে পরিবহন মালিকরা কিলোমিটার প্রতি ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছেন।
ফকিরাপুল, সায়দাবাদ ও গাবতলী টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক কোম্পানি অর্ধেকের বেশি বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। পরিবহনে সেক্টরের বড় প্রতিষ্ঠানগুলো বাসের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে এনেছে। । একটি পরিবহনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেলের অভাবে বাস ছাড়তে ২ থেকে ৩ ঘণ্টা দেরি হচ্ছে, ফলে যাত্রীরা বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য হচ্ছেন।
জ্বালানি তেলের নতুন দাম কার্যকরের পর ইতিমধ্যে বিভিন্ন রুটে ভাড়া বাড়ানো শুরু হয়েছে। ঢাকা-মৌলভীবাজার রুটে ভাড়া ৫৭০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬২০ টাকা করা হয়েছে। অন্যান্য রুটেও অলিখিতভাবে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। পরিবহন কর্মীদের দাবি, পাম্পে পর্যাপ্ত তেল মিলছে না, আর যা পাওয়া যাচ্ছে তার জন্য বাড়তি ‘টিপস’ দিতে হচ্ছে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সূত্র জানিয়েছে, শুধু তেলের দাম নয়, গাড়ির যন্ত্রাংশ, চাকা, ইঞ্জিন অয়েল এবং চেসিসের দামও গত দুই বছরে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মালিক নেতারা দাবি করেছেন, বর্তমান ভাড়া প্রতি কিলোমিটার ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪ টাকা ৫ পয়সা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। ডলারের দাম ও ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হার বিবেচনায় না নিলে ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া উপায় নেই বলে জানিয়েছেন তারা।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রভাবে শুধু যাত্রী পরিবহন নয়, পণ্য পরিবহনেও খরচ বাড়বে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আরও একদফা বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম জানিয়েছেন, তারা আজকালের মধ্যে সরকারের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন এবং একটি নতুন ভাড়া নির্ধারণ করবেন।
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকি ছবি


