স্ফুলিঙ্গ ডেক্স :
দেশে হামের প্রকোপে তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর জন্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের চরম ব্যর্থতাকে দায়ী করে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী। বুধবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে শিশুদের প্রতীকী মরদেহ কোলে নিয়ে এই প্রতিবাদ সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতা-কর্মীরা।
সমাবেশে বক্তারা হামকে ‘মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে তা সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধের দাবি জানান। সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি দিলীপ রায় বলেন, “হামের এই সংকট প্রাকৃতিক নয়, এটি মানবসৃষ্ট। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ বিদায় করা হয়েছে শিশুদের সুন্দর আগামীর জন্য, কিন্তু সেই শিশুরাই আজ প্রশাসনিক অবহেলায় প্রাণ হারাচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, গুরুত্বপূর্ণ এই জাতীয় ইস্যু নিয়ে বিএনপি বা জামায়াত কেউই স্পষ্ট অবস্থান নিচ্ছে না।
সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, দেশের ৫৮টি জেলায় হামের প্রকোপ দেখা দিলেও অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি সাবেক প্রশাসনের স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়ে বলেন, নিজেদের মুনাফার জন্য শিশুদের মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
ঢাবি শাখার সাবেক সভাপতি নুজিয়া হাসান রাশা বলেন, “সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সংস্কারের নামে কেবল নিজের ঋণ মওকুফ করেছেন এবং একটি বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে চলে গেছেন, অথচ দেশের শিশুরা চিকিৎসার অভাবে মারা গেছে।” বক্তারা উল্লেখ করেন, যখন দেশের শিশুরা হাসপাতালে প্রাণ হারাচ্ছিল, তখন ড. ইউনূস জাপানে গিয়ে শিশুদের সাথে ফুল বিনিময় করছিলেন, যা চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।
সমাবেশ থেকে বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন দ্রুত এই মহামারি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয় এবং একটি বিশেষ তদন্ত কমিটির মাধ্যমে সাবেক প্রশাসনের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়। ছবি সংগৃহীত।


