আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান থেকে চীন কোনোভাবেই তেল সংগ্রহ করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানি তেল বহনকারী চীনা জাহাজ আটকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ইতোমধ্যে ইরান-সংশ্লিষ্ট অন্তত ৮টি তেলবাহী জাহাজকে ফিরে যেতে বাধ্য করেছে মার্কিন নৌবাহিনী।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই কঠোর বার্তা দেন। তিনি বলেন, “তারা (চীন) ইরান থেকে তেল নিতে পারবে না। তারা চাইলে অন্য উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করতে পারে, কিন্তু ইরানের তেল নয়।”
বেসেন্ট আরও অভিযোগ করেন, ইরানের তেলের বড় ক্রেতা হিসেবে চীন বৈশ্বিক অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। চীন একদিকে তেলের মজুত বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে নিজস্ব কিছু পণ্যের রপ্তানি সীমিত করে বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, গত সোমবার থেকে মার্কিন নৌবাহিনী ইরান উপকূল থেকে বের হওয়া বা বন্দরে প্রবেশ করতে চাওয়া ৮টি জাহাজকে রেডিও বার্তার মাধ্যমে পথ পরিবর্তন করতে বাধ্য করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগামী সব দেশের জাহাজের ক্ষেত্রেই এই অবরোধ সমানভাবে কার্যকর করা হচ্ছে। এই অভিযান সফল করতে মার্কিন নৌবাহিনীর গাইডেড-মিসাইল ডেস্ট্রয়ারসহ শক্তিশালী যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হয়েছে।
আগামী মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। এই তেল বাণিজ্য নিয়ে তৈরি হওয়া নতুন উত্তেজনা সেই সফরে কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। তবে অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র-আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা
ফাইল ছবি


