গভীর রাতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি!

গভীর রাতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি!

ফরিদপুর প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় এক প্রবাসী পরিবারের বাড়িতে গভীর রাতে হানা দিয়ে অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কারসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করেছে একদল সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র। গতকাল রবিবার (২১ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাটঘাটা গ্রামের হাজী বাড়িতে এই লোমহর্ষক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী ডাকাতদের এই নৃশংস ও পরিকল্পিত হামলার পর থেকে পুরো হাটঘাটা ও তার আশপাশের এলাকায় চরম আতঙ্ক ও গণ-উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ, ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, ওই বাড়ির মালিক মো. খাইরুল ইসলাম মোল্লা প্রতিদিনের ন্যায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাতের খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ মেইন দরজায় সজোরে আঘাত ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তিনি ও তাঁর স্ত্রী বিছানা থেকে উঠে এগিয়ে যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১৩ থেকে ১৪ জনের একটি সুসংগঠিত মুখোশধারী ও সশস্ত্র ডাকাত দল কুড়াল-রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রের মুখে দরজা ভেঙে হুড়মুড় করে ঘরের ভেতর প্রবেশ করে।

ঘরে ঢুকেই ডাকাতরা প্রথমে খাইরুল ইসলামের ১৫ বছর বয়সী নাবালক ছেলে মাহিকে রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরবর্তীতে বাড়ির কর্তা খাইরুল ইসলাম ও তাঁর স্ত্রীকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ঘরের এক কোণে ফেলে রাখা হয়। এরপর প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে পুরো বাড়ির বিভিন্ন আলমারি, শোকেস ও লকার ভেঙে তছনছ করে তল্লাশি চালায় ডাকাতরা। তারা ঘর থেকে নগদ ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা, প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার, নতুন নামী দামি কাপড়চোপড় এবং অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে অনায়াসে চম্পট দেয়। ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবারের দাবি, এই ডাকাতির ঘটনায় তাদের সর্বমোট ক্ষক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ টাকা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রবাসীর বাড়িতে লুটপাট শেষ করে ডাকাত দল চলে যাওয়ার সময় আশপাশের আরও কয়েকটি বাড়িতে হানা দেওয়ার চেষ্টা করে। তারা বেশ কয়েকটি বাড়ির দরজায় কুড়াল ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে অবরুদ্ধ করার চেষ্টা চালায়, তবে প্রতিবেশীরা টের পেয়ে চিৎকার শুরু করলে ডাকাতরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে এই এলাকায় চুরি ও ডাকাতির উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এই ডাকাতির খবর পেয়ে আজ সোমবার (২২ জুন) সকালে মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আজম খান, মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীর বাড়ি পরিদর্শন করেন এবং ভুক্তভোগীদের সান্ত্বনা দেন।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এটি সম্পূর্ণ একটি পূর্বপরিকল্পিত এবং সুসংগঠিত ডাকাতির ঘটনা। ডাকাতরা পরিকল্পিতভাবে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করেছে। আমরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছি এবং দ্রুত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছি।”

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, “ডাকাতির সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করেছে। এই দুর্ধর্ষ ঘটনার সাথে জড়িত ডাকাত চক্রটিকে দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের জন্য পুলিশের একাধিক চৌকস টিম ইতিমধ্যেই মাঠে কাজ শুরু করেছে। আমরা আশা করছি খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হবে।” এদিকে, ঘটনার পর থেকে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে এবং তারা অতিসত্বর এলাকায় নিয়মিত পুলিশি টহল বৃদ্ধি ও নৈশ নিরাপত্তা জোরদার করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। ছবি সংগৃহীত।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *