কালীগঞ্জে ট্যাপ খুললেই বের হচ্ছে দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি : চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পৌরবাসী

কালীগঞ্জে ট্যাপ খুললেই বের হচ্ছে দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানি : চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পৌরবাসী

মোঃ মাসুদ রানা, কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ):

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ, ময়লা ও কালচে রঙের উপস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পৌরবাসী। দীর্ঘদিন ধরে চলমান এ সমস্যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। বিশেষ করে যেসব বাসাবাড়ি, ছাত্রাবাস ও মেসে নিজস্ব টিউবওয়েল নেই, তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান,নিয়মিত পৌরকর ও পানির বিল পরিশোধ করলেও তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অনেক ক্ষেত্রে সরবরাহকৃত পানি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যা সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর।
শিবনগর বোষ্টমপাড়ার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,সকালে গোসল করতে গিয়ে দেখি কালো ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি আসছে। মাঝে মধ্যেই এমন হয়। এই পানি ব্যবহার তো দূরের কথা, কাছে যেতেও কষ্ট লাগে। অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।
একই এলাকার গৃহবধূ সেলিনা খাতুন বলেন, পানির এই অবস্থার কারণে রান্না-বান্না করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে অনেক সময় বাইরে থেকে পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে। নিয়মিত কর পরিশোধ করেও আমরা ন্যূনতম সেবা পাচ্ছি না।
শহরের মেইন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি ছাত্রাবাসের শিক্ষার্থী আশিক জানায়,আমাদের মেসে কোনো টিউবওয়েল নেই। পুরোপুরি পৌরসভার পানির ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু অনেক দিন এমন যায়, যেদিন পানির অভাবে গোসল না করেই কলেজে যেতে হয়।
মধুগঞ্জ বাজার এলাকার বাসিন্দা লিপু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, অনেকদিন ধরেই পানির মান খারাপ। এক গ্লাস পানিতে যেন অর্ধেকই আয়রন ও ময়লা। তীব্র দুর্গন্ধের কারণে ব্যবহার করা যায় না। দ্রুত সুপেয় পানির ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।
পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ পৌর এলাকায় মোট ছয়টি পানির পাম্প রয়েছে—চাপালি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকা, নিশ্চিন্তপুর, আড়পাড়া, বাস টার্মিনাল ও বৈশাখী ফিলিং স্টেশন এলাকায়। এর মধ্যে আড়পাড়ার একটি পাম্প দীর্ঘদিন ধরে অচল রয়েছে। এছাড়া পুরনো পাইপলাইনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পাইপে মরিচা ও ছিদ্র সৃষ্টি হয়ে জং, কাদা ও ময়লা পানির সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে প্রতিদিন তিন দফায় পানি সরবরাহ করা হয়- সকাল সাড়ে ৬টা থেকে ৮টা, দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ২টা এবং বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৫টা পর্যন্ত। তবে সময়সূচি থাকলেও পানির মান নিয়ে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে।
এ বিষয়ে পৌরসভার প্রকৌশলী মো. কবির হাসান বলেন, “আমাদের পৌর এলাকায় ছয়টি পাম্প রয়েছে, যার একটি বর্তমানে অচল। সেটি দ্রুত সচল করার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় পুরনো পাইপলাইন ও লাইনে জমে থাকা ময়লার কারণে সাময়িকভাবে এ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। আমরা আগেও কিছু এলাকায় পাইপ পরিষ্কার করেছি, আবারও প্রয়োজনীয় স্থানে পরিষ্কার কার্যক্রম চালানো হবে। খুব শিগগিরই সমস্যা সমাধান করে নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।”
এদিকে পৌরবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়—দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। ছবি প্রতিবেদক।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *