বিশ্বাস শিহাব পারভেজ মিঠু,নিজস্ব প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী): পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় চুরিকৃত গরু জবাই করে মাংস বিক্রি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে আবু সালেহ হাওলাদার নামে এক মাংস ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত আবু সালেহ বালিয়াতলী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ মজিবর হাওলাদারের ভাই। এ ঘটনায় স্থানীয় সালিশের মাধ্যমে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং চুরি হওয়া বাকি দুটি গরু উদ্ধার করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের চরহেয়ার (কলাগাছিয়া) এলাকার বাসিন্দা মোশারেফ দালালের খামার থেকে তিনটি গরু চুরি হয়। অনেক খোঁজা খুঁজির পর ফেসবুকের মাধ্যমে মোশারেফ জানতে পারেন তার গরুগুলো বালিয়াতলী ইউনিয়ন এলাকায় রয়েছে। সেখানে গিয়ে তিনি একটি গরুর চামড়া দেখে নিজের গরু শনাক্ত করেন, যা ততক্ষণে জবাই করে মাংস বিক্রি করে দেওয়া হয়েছিল। বাকি দুটি গরু গোলবন এলাকায় বাঁধা অবস্থায় জীবিত উদ্ধার করা হয়।
রবিবার বালিয়াতলী ইউনিয়নে স্থানীয় বিএনপি নেতা ডা. ঝুনু কবির ও ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোঃ রুহুল আমিনের মধ্যস্থতায় এক সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অভিযুক্ত আবু সালেহকে দোষী সাব্যস্ত করে জবাই করা গরুর ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উদ্ধারকৃত বাকি দুটি গরু বর্তমানে স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী দেলোয়ারের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
গরুর মালিক মোশারেফ দালাল জানান, “একটি গরু জবাই করে ফেলা হয়েছিল, যার চামড়া দেখে আমি চিনতে পেরেছি। বাকি দুটি জীবিত পেয়েছি। সালিশে আমাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।” সালিশদার ডা. ঝুনু কবির জানান, গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গরু দুটি উদ্ধার ও জরিমানার টাকা মালিককে বুঝিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রবিউল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ছবি-চোরাই হওয়া উদ্ধার কৃত গরু


