স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
চৈত্রের দাবদাহ ছাপিয়ে যশোরের আকাশে-বাতাসে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া। তবে এ হাওয়া রাজনীতির নয়, বরং যশোরবাসীর প্রাণের স্পন্দন ‘যশোর ইনস্টিটিউট’ পরিচালনার নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার। আগামী ২৪ এপ্রিল (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের বহু প্রতীক্ষিত ত্রি-বার্ষিক নির্বাচন। ২০ জন পরিচালক বেছে নিতে এখন ঘড়ি ধরে হিসাব কষছেন ৩ হাজার ২৯ জন ভোটার।
সকাল থেকে গভীর রাত—শহরের অলিগলি এখন প্রার্থীদের পদচারণায় মুখর। কাকডাকা ভোরেই লিফলেট হাতে ভোটারদের দুয়ারে হাজির হচ্ছেন প্রার্থীরা। শুধু কি দুয়ারে? সন্ধ্যায় ইনস্টিটিউট চত্বর, রওশন আলী মঞ্চ আর আশপাশের চায়ের আড্ডায় কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে ভোটের সমীকরণ। প্রার্থীরা যেমন ক্লান্তিহীনভাবে ছুটছেন, ভোটাররাও তেমনি গভীর মনোযোগে বিচার করছেন কে হবেন আগামীর কাণ্ডারি।
এবারের ভোটের লড়াইটা অনেকটা দ্বিমুখী, তবে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের চ্যালেঞ্জও ফেলনা নয়।
১. সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি (ব্যালট ১-২০): ‘আলোকিত সমাজ গড়ার প্রত্যয়’ নিয়ে মাঠে নেমেছেন এ.জেড.এম সালেক স্বপন ও কাসেদুজ্জামান সেলিমের নেতৃত্বাধীন ২০ জনের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল। এই টিমে অধ্যাপক, আইনজীবী থেকে শুরু করে অভিজ্ঞ সংগঠকদের সমন্বয় দেখা যাচ্ছে। প্যানেল লিডার সালেক স্বপন যশোরবাসীর গর্বের এই প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় পূর্ণ প্যানেলে ভোট চেয়েছেন।
২. পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ (ব্যালট ২১-৪০): অন্যদিকে ‘নতুন আলোর পথে অবিরাম অভিযাত্রা’র স্লোগান নিয়ে লড়ছেন আনিসুজ্জামান পিন্টু ও তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন প্যানেল। তাঁদের দাবি, দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভেঙে সদস্যদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই তাঁদের বড় জয়। পিন্টু আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃত্বের আধুনিকায়নে পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য।
পাশাপাশি ৪১ ও ৪২ নম্বর ব্যালট নিয়ে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী নুরুন্নবী এবং মাহবুবুর রহমানও নীরবে চালিয়ে যাচ্ছেন নিজেদের প্রচারণা।
সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি (ব্যালট ১-২০) এই প্যানেলের মূল স্লোগান— ‘আলোকিত সমাজ গড়া’। এ.জেড.এম সালেক (স্বপন) ও কাসেদুজ্জামান সেলিমের নেতৃত্বে এই প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন:
১. এ.জেড.এম সালেক স্বপন, ২. সৈয়দ শাহাজাহান আলী খোকন, ৩. শাহনেওয়াজ আনোয়ার লেনিন, ৪. অধ্যক্ষ ড. শাহনাজ পারভীন, ৫. অধ্যাপক ইবাদত আলী, ৬. আলমগীর হোসেন, ৭. চঞ্চল কুমার সরকার, ৮. জিল্লুর রহমান, ৯. হাচিনুর রহমান, ১০. অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, ১১. আক্তারুজ্জামান, ১২. প্রফেসর শেখ জুলফিকার আলী, ১৩. শাহাবুদ্দীন আহমেদ সাবু, ১৪. এসএম মুস্তাফিজুর রহমান কবীর, ১৫. সানোয়ার আলম খান দুলু, ১৬. এমরান সাদিক, ১৭. অ্যাডভোকেট আবুল কায়েস, ১৮. রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল, ১৯. অজয় দত্ত এবং ২০. কাসেদুজ্জামান সেলিম।
প্যানেল লিডার এজেএম সালেক স্বপন বলেন, “সম্মানিত ভোটাররা বিচার-বিশ্লেষণ করে যোগ্যদেরই বেছে নেবেন। উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে আমাদের পূর্ণ প্যানেলকে বিজয়ী করার আহ্বান জানাই।”
পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ (ব্যালট ২১-৪০) এই প্যানেল লড়ছে ‘নতুন আলোর পথে’ অভিযাত্রার প্রত্যয় নিয়ে। আনিসুজ্জামান পিন্টু ও তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে এই প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন:
২১. আনিসুজ্জামান পিন্টু, ২২. আবুল হাসিম রেজা, ২৩. মনজুর কাদের মঞ্জু, ২৪. ফেরদৌস হোসেন আলমগীর, ২৫. নাসির উদ্দীন মিঠু, ২৬. মমতাজ খাতুন, ২৭. নাছিম উদ্দিন খান, ২৮. বদরুজ্জামান, ২৯. হাবিবুর রহমান রুবেল, ৩০. তরিকুল ইসলাম, ৩১. সালমান হোসেন, ৩২. শাহাবুদ্দীন, ৩৩. জাকির হোসেন, ৩৪. জুবায়ের হোসেন, ৩৫. শেখ সাদী হ্যাভেন, ৩৬. আবুল কালাম আজাদ (মামুন আজাদ), ৩৭. এসএম তোজাম্মেল হক, ৩৮. শারমিন সুলতানা (সাথী), ৩৯. নূর-ই-আলী-নূর-মামুন এবং ৪০. হাসেম আলী।
প্যানেল লিডার আনিসুজ্জামান পিন্টু বলেন, “আমরা সদস্যদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিয়েছি। বর্তমান ধারার পরিবর্তন ঘটিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে আধুনিক করতে ভোটাররা আমাদের পক্ষেই থাকবেন।”
স্বতন্ত্র প্রার্থী দুই প্যানেলের বাইরে আরও দুজন লড়ছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে:
৪১. নুরুন্নবী এবং ৪২. মাহবুবুর রহমান।
ভোটের দিনক্ষণ ও পরিসংখ্যান:
আগামী শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ চলবে। এবারের মোট ৩ হাজার ২৯ জন ভোটারের মধ্যে ১৮৭৯ জনই হলেন ‘জীবন সদস্য’, যাঁদের ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর ওই দিনই শুরু হবে গণনা, আর রাতের মধ্যেই জানা যাবে কাদের হাতে যাচ্ছে আগামী তিন বছরের জন্য ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব।
আশার কথা:
যশোর ইনস্টিটিউট কেবল একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এই অঞ্চলের শিক্ষা ও সংস্কৃতির দ্যুতি। নির্বাচনে যে পক্ষই জয়ী হোক না কেন, সাধারণ ভোটারদের একমাত্র প্রত্যাশা—এই দ্যুতি যেন আরও উজ্জ্বল হয় এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি আদর্শ সংস্কৃতি চর্চার কেন্দ্র হিসেবে টিকে থাকে।
ফাইল ছবি


