স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
যশোরের ঐতিহ্যবাহী মুক্তেশ্বরী নদীকে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করা, নদীর স্বাভাবিক নাব্যতা ফিরিয়ে আনা এবং উজান ও ভাটির নদীর সাথে সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবিতে যশোরে এক বিক্ষোভ পদযাত্রা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৫টার দিকে ‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’-এর ব্যানারে এই পরিবেশবাদী ও নাগরিক অধিকার আন্দোলনের কর্মসূচি পালিত হয়। শহরতলীর পুলেরহাট এলাকা থেকে শুরু হওয়া এই পদযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দড়াটানাস্থ ঐতিহাসিক ভৈরব চত্বরে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। নদী ও পরিবেশ সুরক্ষার এই আন্দোলনে স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের সচেতন নাগরিক ও পরিবেশবাদী নেতৃবৃন্দ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
‘মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলন’-এর প্রধান আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাসের প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন সংগঠনের সম্মানিত উপদেষ্টা ও প্রবীণ রাজনীতিক ইকবাল কবির জাহিদ। এছাড়াও পদযাত্রায় অগ্রভাগে উপস্থিত ছিলেন যশোর পরিবেশ আন্দোলনের শীর্ষস্থানীয় নেতা হারুন অর রশিদ, হাসিবুর রহমান, আবু হাসান, রাশেদ খান এবং জিল্লুর রহমান ভিটুসহ বিভিন্ন সামাজিক ও প্রগতিশীল সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে আয়োজক ও পরিবেশবাদী বক্তারা মুক্তেশ্বরী নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বর্তমান ভয়াবহ সংকটের চিত্র তুলে ধরে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি জানান। বক্তারা বলেন, নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ পুরোপুরি বন্ধ করে নদীর তীরবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা আদ-দ্বীন হাসপাতালসহ সকল বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত অবৈধ স্থাপনা অবিলম্বে উচ্ছেদ করতে হবে। একই সাথে নদী দখল ও দূষণের সাথে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা। এছাড়া যশোরের মরণফাঁদ হিসেবে পরিচিত দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে নিরসন করতে ঐতিহাসিক ভৈরব নদীর সাথে উজানে মুক্তেশ্বরী নদীর আদি সংযোগ পুনঃস্থাপন এবং মাথাভাঙ্গা ও ভৈরব নদীর মাঝে সংযোগ সচল করার জন্য সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
সমাপনী বক্তব্যে পরিবেশ আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষা করা কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দায়িত্ব নয়, এটি সমগ্র মানবজাতির অস্তিত্বের লড়াই। তাই সাধারণ মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নদী খেকোদের আগ্রাসন রুখতে প্রশাসনের টাস্কফোর্সের নিয়মিত অভিযান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। মুক্তেশ্বরী নদীকে পুরোপুরি দখলমুক্ত ও সচল না করা পর্যন্ত আগামী দিনগুলোতেও এই ধরনের রাজপথের শান্তিপূর্ণ ও কঠোর আন্দোলন অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়ে কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়। ছবি সংগৃহীত।

