স্ফুলিঙ্গ রিপোর্ট :
বাংলা সাহিত্যের দুই প্রধান বাতিঘর—বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী ১৪৩৩ উপলক্ষে যশোরে এক ভাবগম্ভীর আলোচনা সভা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে। জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আজ সোমবার (১৫ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী এই উৎসবমুখর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রবীন্দ্র-নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তীর এই বিশেষ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহসান হাবিব। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুনসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, অভিভাবকবৃন্দ এবং স্থানীয় বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা।
স্মারক আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলা সাহিত্য, সংস্কৃতি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের অতুলনীয় ও যুগান্তকারী অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তাঁরা বলেন, এই দুই মহান কবির বৈচিত্র্যময় সৃষ্টি ও মানবতাবাদী দর্শন বাঙালি জাতির প্রতিটি সংকট ও স্বাধিকার আন্দোলনে অন্যতম প্রধান অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে কাজ করেছে। যুগ যুগ ধরে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করতে এবং বৈশ্বিক দরবারে বাংলা ভাষাকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করতে রবীন্দ্র-নজরুল সাহিত্যের কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন আলোচকেরা।
স্মৃতিচারণ ও জ্ঞানগর্ভ আলোচনা পর্ব শেষে মঞ্চজুড়ে শুরু হয় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় এক আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। অনুষ্ঠানমালার দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষার্থীরা দুই কবির কালজয়ী কবিতা থেকে আবৃত্তি, চিরন্তন প্রেমের গান ও দ্রোহের সংগীত পরিবেশন করে। একই সাথে রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গানের নান্দনিক সুরের তালে তালে মনোজ্ঞ নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে শিল্পীরা। স্থানীয় সুধীজন ও সংস্কৃতিকর্মীদের বিপুল উপস্থিতিতে অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে এই স্মরণ উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। ছবি সংগৃহীত।


